বল লিভ করলেন, ক্লিন বোল্ড, বেল বাতাসে উড়ল। ব্যাটারের জন্য ভিষণ লজ্জা, আর বোলারের জন্য পরম আরাধ্য এক দৃশ্য। আর এমন দৃশ্যটা এখন নাহিদ রানার সুবাদে প্রায় প্রতি নিয়তই দেখা যাচ্ছে। আর প্রায় নিয়মিতই সেই স্বাদ পাচ্ছে পাকিস্তান, এবার লজ্জিত সেই ব্যাটারের নাম মোহাম্মদ রিজওয়ান।
পাকিস্তান এমন একা জায়গায় চলে গিয়েছিল, যখন ম্যাচ বাঁচাতে মোহাম্মদ রিজওয়ানকেই ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হত। তিনি সেই চেষ্টাই করছিলেন। আর সেই ঢাল গুড়িয়ে দিয়ে স্ট্যাম্প ছত্রখ্যান করে নাহিদ রানার ১৪৭ কিলোমিটার গতির এক গোলা।
আসলে শুধু রিজওয়ানই নয়, নাহিদ রানার গল্পটা মিরপুরের পঞ্চম দিনে শুরু হয়েছে আরও আগে থেকেই। শান মাসুদ তিনি নিজের প্রথম শিকার বানান, উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান পাকিস্তানের অধিনাযক। এরপর সৌদ শাকিলও একই পথে হাঁটেন, আউট হন একই ভাবে।

আর রিজওয়ান আউট হয়ে যাওয়ার পর বাকিটা সময় ছিল নিয়মরক্ষার লড়াই। শেষ ব্যাটার শাহীন শাহ আফ্রিদিকে আউট করে আরও একবার পাঁচ উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়াকে যেন নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চতুর্থবারের মত পাঁচ উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। পাকিস্তানের বিপক্ষেই এটা তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের নজীর।
নাহিদ রানার বাউন্সারে বিপর্যস্ত হয়েই নাকি তেতে উঠেছিলেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত আজান আওয়াইশ। নিজেকে বাংলাদেশি এই পেসারের কাছে চেনানোর জন্যই সেঞ্চুরির জন্য নাকি মরিয়া ছিলেন, এবার গোটা পাকিস্তান আবার দেখল, আবারও বুঝল নাহিদ রানা কি জিনিস, আসলে নাহিদ রানাকে আগেই ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে বুঝে গিয়েছে বাংলাদেশ দল।
বুঝল বাংলাদেশ ক্রিকেটও। এই মিরপুরেই স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হাসতে হাসতে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। সেই মিরপুরই এখন পেসারদের ঘাটি, সেই মিরপুরই এখন নাহিদ রানার ঘাটি।











