হাসতে হাসতেই পাকিস্তান বধ করলেন শান্ত!

সাহসী সিদ্ধান্ত, বোলিং চেঞ্জ, ফিল্ডিং সেটআপ আর সর্বোপরি জয়ের ক্ষুধা, কী ছিল না শান্তর মধ্যে! এক কথায় বলতে গেলে, ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক। 

সর্বদা মুখে লেপ্টে আছে চওড়া হাসি, আর হাসতে হাসতেই পাকিস্তান বধ করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্ষুরধার ক্রিকেটীয় মস্তিষ্কের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার করেছেন। সাহসী সিদ্ধান্ত, বোলিং চেঞ্জ, ফিল্ডিং সেটআপ আর সর্বোপরি জয়ের ক্ষুধা, কী ছিল না শান্তর মধ্যে! এক কথায় বলতে গেলে, ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক।

বাংলাদেশের টেস্ট সংস্কৃতিতে ‘ডিফেন্সিভ ক্রিকেট’ শব্দটা বেশ পরিচিত। বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই থাকে, ড্র করতে হবে, আর জয়টা ভাগ্যের হাতে। তবে শান্ত এই ধারার বিরোধিতা করেছেন।

২৬৭ রানের লিড নিয়ে যখন বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করল, ওটাই ছিল শান্তর স্টেটমেন্ট, তিনি এই ম্যাচ জিততে চান। পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮, হিসাব অনুযায়ী ৭৬ ওভার খেলার মতো সময় তারা পাবে। শান্ত যে ড্র করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেন না, ওটাই ছিল তার প্রমাণপত্র।

এবার পাকিস্তানকে আটকাতে হবে। লাঞ্চের আগে চার ওভার ব্যাট করবে পাকিস্তান। সবাই ধরেই নিয়েছিল, যেহেতু পঞ্চম দিন, ঝুঁকি না নিয়ে স্পিন অ্যাটাক করবে বাংলাদেশ। তবে শান্ত ওই ঝুঁকিই নিলেন, শুরু করলেন তাসকিন আহমেদকে দিয়ে। ফলাফল, প্রথম ওভারেই উইকেট।

বাকি সময় নিখুঁত বোলিং চেঞ্জ কাকে বলে, সেটাই দেখিয়েছেন। যখন ব্রেকথ্রু ভীষণ জরুরি হয়েছে, তখনই বোলিংয়ে পরিবর্তন এনেছেন। কাপ্তানের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ-তাইজুল ইসলামরা।

বিশেষ করে নাহিদ রানাকে যেভাবে ব্যবহার করেছেন শান্ত সেটা এক কথায় অনবদ্য। যেটাই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে। ১৮তম ওভারে শেষবার নাহিদকে আক্রমণে এনেছিলেন, পরেরবার এসেছেন ৪৫তম ওভারে। এই যে ২৭ ওভারের গ্যাপ, এর মধ্যে নাহিদ নিজের পূর্ণ শক্তির সঞ্চার করেছেন শেষ আক্রমণ করার জন্য। আর ফিরে এসেই তাণ্ডব চালিয়েছেন। ফাইফার তুলে নিশ্চিত করেছেন দলের জয়। শান্তর বিশ্বাস ছিল, এটাই মূলত ‘জয়’ নামক বস্তুর সন্ধান মিলিয়ে দিয়েছে।

শান্তর অধিনায়কত্বের আরেকটা বৈশিষ্ট্য, মাঠে তিনি সর্বদা অ্যাক্টিভ। সতীর্থদের বোঝা, বিশ্বাস রাখা, ফ্রিডম দেওয়া—সবকিছুতেই তাঁর জুড়ি মেলা ভার। রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রেও শান্তর জন্য প্রশংসাবাণী রাখতেই হয়। এখানেও সাহস দেখিয়েছেন, সফলও হয়েছেন। আবার যখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন সাহায্য নিয়েছেন মুশফিকুর রহিমদের মতো অভিজ্ঞদের কাছ থেকে। তাই তো শান্তর খুঁত পাওয়া দুষ্কর।

ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকে, কাপ্তানিতেও একশোতে একশো তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর ফল আসবে না, তাই কি হয়! পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে শান্তর অধিনায়কত্বের রেকর্ড অবিশ্বাস্য। তিন ম্যাচের তিনটিতেই শান্তর জয়। সবশেষে একটা কথাই বলার থাকে, দলনেতা তো এমনই হয়।

Share via
Copy link