সংবাদসম্মেলনে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের সালমান আলি আঘা। বাংলাদেশ সেই চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েও দমে যায়নি। ড্রয়ের জন্য খেলা পাকিস্তান এড়াতে হার পারেনি । পঞ্চম দিনের সকল আকর্ষণ নিজেদের দিকে কেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছে ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক জয়।
আগের দিনের তিন উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে শেষ দিনে ব্যাটে নামে টাইগাররা। তবে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ছাড়া এদিন ব্যাট হাতে স্মরণীয় কিছু করতে পারেননি আর কেউ। বরং, দেখা গিয়েছিল সাজঘরে ফেরার তাড়া। শান্তর ৮৭-তে ভর করে ২৪০ রানে নয় উইকেট হারানোর পর ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
৭০-৭৫ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য হলে পাকিস্তান জয়ের লক্ষ্যে লড়ে যাবে। সংবাদসম্মেলনে এমনটাই বলেছিলেন সালমান আলি আঘা। তাঁর কথাই যেন রেখেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান যখন ব্যাট করতে নামে তখন তাঁদের প্রয়োজন ছিল ২৬৮ রান। সর্বোচ্চ খেলতে পারতো ৭৬ ওভার। তবে, সালমানরা কথা রাখতে পারলেন না। জয়ের জন্য খেলতে দেখা যায়নি পাকিস্তানকে।

প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয়যাত্রার সূচনার গল্প লিখেন তাসকিন আহমেদ। তিনে নামা আব্দুল্লাহ ফজল এরপর অনেকটা লড়াই করার মনোভাব দেখিয়েছিলেন, কিন্তু, বাকি ব্যাটারদের কাছ থেকে যোগ্য সঙ্গ পাননি। নাহিদ রানাদের সামনে ঠিকই নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা।
ফজলের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৬৬ রানের ইনিংস। তাঁকে বাদ দিলে আর কেউ নাহিদ রানার গতির ঝড়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ব্যাটারদের মধ্যে জয়ের কোনো সদিচ্ছাই দেখা যায়নি। মনে হয়েছে ড্র হলেই যেন স্বস্তি পাবেন তাঁরা। নাহিদ এদিন শিকার করেন পাঁচ উইকেট। তাইজুল ইসলাম, তাসকিনদের সম্মিলিত আক্রমণের সামনে সাউদ শাকিলের দল গুড়িয়ে যায় ১৬৩ রানে।
পাকিস্তানকে তাঁদের ঘরের মাঠে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করার রেকর্ড থাকলেও নিজ দেশে কোনো জয় ছিল না বাংলাদেশের। ১০৪ রানের এই বিশাল জয়ে যেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটালো শান্তরা। দেশ কিংবা বিদেশ হোক, সকল জায়গাতেই নিজেদের জয়রথ চালু রাখল বাংলাদেশ।











