মার্টিনেজ হারতে জানেন না!

এই প্রজন্মে শান্তশিষ্ট, টেকনিক্যালি নিখুঁত কিপারের অভাব নেই। কিন্তু শত্রুর চোখে চোখ রেখে যুদ্ধ জেতার এমন সিনেমাটিক গল্প আর কারও নেই।

​গোলপোস্টের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি তাচ্ছিল্যের হাসি হাসেন। আর চোখ রাঙিয়ে বলেন ‘আই এম গোয়িং টু ইট ইউ আপ’। কারও কাছে তিনি পাড়ার মোড়ে দাঁড়ানো বখাটে মাস্তান, কারও কাছে তিনি সুপার হিরো, তিনি আর কেউ নন, আর্জেন্টিনার অবাধ্য বাজপাখি দামিয়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

এই প্রজন্মে শান্তশিষ্ট, টেকনিক্যালি নিখুঁত কিপারের অভাব নেই। কিন্তু শত্রুর চোখে চোখ রেখে যুদ্ধ জেতার এমন সিনেমাটিক গল্প আর কারও নেই।

সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকার মাটিতে আরেকটি মহাযুদ্ধের দামামা বাজছে। চার বছর আগে কাতারের মরুদ্যানে ফরাসিদের বুক ভেঙে তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছিলেন ৩৬ বছরের অধরা বিশ্বকাপ। সেই এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবার ডানা মেলছেন নিজের অমরত্বকে আরও একধাপ উঁচুতে নিয়ে যেতে।

​আজকের এই চোখধাঁধানো আলোর পেছনের অন্ধকারটা বড্ড দীর্ঘ আর নির্মম ছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে যখন মার দেল প্লাতার সৈকত আর অভাবী পরিবারকে ফেলে লন্ডনে পাড়ি জমান, পকেটে ছিল না কোনো গ্ল্যামার।

এক ক্লাব থেকে আরেক ক্লাব। লোন প্লেয়ারের সিলমোহর কপালে নিয়ে ঘুরেছেন রিডিং থেকে গেতাফে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যিনি ছিলেন গ্যালারির আড়ালে ঢাকা পড়া এক লোন কিপার, আজ তিনিই বিশ্বফুটবলের শেষ কথা।

মার্টিনেজ যেন হারতে শেখেননি। আর লড়াইটা যদি হয় ফাইনালে হার তো কখনো স্পর্শই করতে পারেনি তাকে। ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত যে কয়টি ফাইনালে গ্লাভস হাতে দাঁড়িয়েছেন, প্রতিবারই মাঠ ছেড়েছেন বিজয়ী হয়ে। সাতটি ফাইনাল, সাতটি ট্রফি – এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান!

২০২০ সালে আর্সেনালের হয়ে এফএ কাপ আর কমিউনিটি শিল্ড জিতে যে যাত্রার শুরু, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে রূপ নেয় এক রূপকথায়। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ২৮ বছরের ট্রফির খরা কাটান তিনি।

এরপর ২০২২ সালে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে জেতেন ফিনালিসিমা। ওই একই বছর কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন বিশ্বজয়।

এখানেই শেষ নয়, ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জিতে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে তার দল। অ্যাস্টন ভিলাকে ৩০ বছর পর এনে দিয়েছেন বড় কোনো মেজর ট্রফি। আর ২০২৬ সালে এসে দীর্ঘ ৪৬ বছর পর ক্লাবের শোকেসে তুলে দিয়েছেন কোনো ইউরোপীয় গৌরব – ইউরোপা লিগ।

মাঠের স্লেজিং, গ্যালারির দিকে তাকিয়ে সেই চিরপরিচিত উদযাপন। আর বুক চিতিয়ে লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে তিনি তৈরি হচ্ছেন আরেকটি বিশ্বজয়ের মহড়ায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ দলগুলো ভালো করেই জানে, জাল কাঁপাতে হলে প্রথমে পার হতে হবে মার দেল প্লাতার সেই অভেদ্য দেওয়ালকে। বাজপাখি আবার ডানা মেলছে, আর পুরো ফুটবল বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে দেখছে এক অবাধ্য জাদুকরের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link