বিধ্বস্ত জনপদ থেকে বিশ্বকাপে!

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, শেষবার ১৯৭৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছিল হাইতির পদচিহ্ন। তারপর কেটে গেছে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়।

রক্ত আর বারুদে ভরা এক বিধ্বস্ত জনপদ থেকে উঠে এসে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিল হাইতি। দেশে যখন বোমার শব্দ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার হাহাকার, ঠিক তখনই নিজ দেশের বাইরে বাইরে খেলে, সব বাধা দুমড়ে-মুচড়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল ক্যারিবীয় এই দ্বীপরাষ্ট্র।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, শেষবার ১৯৭৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছিল হাইতির পদচিহ্ন। তারপর কেটে গেছে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়। অবশেষে এবারের মহোৎসবে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তারা, তবে এই ফেরার পথটা মোটেও কোনো কার্পেটে মোড়ানো সহজ কোনো পথ ছিল না।

নিজেদের দেশে গৃহযুদ্ধ আর চরম নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে ফুটবলাররা ঘরের মাঠে চেনা দর্শকদের সামনে একটি ম্যাচও খেলতে পারেনি। হাইতির প্রতিটি ‘হোম ম্যাচ’ আয়োজিত হয়েছিল কুরাসাও-এর অচেনা মাটিতে। নিজ দেশের মানুষের ভালোবাসার গর্জন ছাড়াই তারা বুক চিতিয়ে লড়ে গেছে।

দল হিসেবে হাইতি ফুটবল বিশ্বের কোনো বড় নাম নয়, দলে নেই কোনো বিশ্বখ্যাত তারকা। তার ওপর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের লড়তে হবে ব্রাজিল ও মরক্কোর মতো শক্তির বিরুদ্ধে, যেখানে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ লড়াকু স্কটল্যান্ড। কাগজ-কলমের হিসাবে হাইতি তাই অনেকটাই পিছিয়ে।

তবুও হাইতি আজ ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে এক পরম বিস্ময় আর অপরাজেয় মানসিকতার জীবন্ত প্রতীক। যেখানে প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই করতে হয়, সেখান থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে তারা যেন বুটের স্পর্শে লিখেছে এক রূপকথার গল্প।

বিশ্বকাপের সোনালী শিরোপা হাতে নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা হাইতির নেই। গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়ে নক-আউটে জায়গা করে নেওয়াটাই তাদের জন্য দু:সাধ্য। কিন্তু, এত সব প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে বিশ্বকাপে ঠাই করে নিয়ে হাইতি যেন নিজেদের নায়কে পরিণত করেছে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link