আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত!

ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে রানের হিসাবে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে শুভমান গিলের দল।

তিন দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে ভারত। ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে রানের হিসাবে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে শুভমান গিলের দল। টেস্ট ক্রিকেটে এমন একপেশে লড়াই খুব বেশি দেখা যায় না।

তবে এই জয়ের গল্প শুধু বিশাল ব্যবধানের নয়, এটি মানাভ সুথারেরও গল্প। তরুণ এই বাঁহাতি স্পিনার নিজের ঘূর্ণি জাদুতে আফগান ব্যাটিং লাইনআপকে বারবার বিভ্রান্ত করেছেন। অভিষেক ম্যাচেই দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট শিকার করে ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে ভারত। ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন লোকেশ রাহুল ও শুভমান গিল। রাহুল খেলেন ১০০ রানের পরিণত ইনিংস, আর অধিনায়ক গিল করেন ১২৬ রান। তিন নম্বরে নেমে সাই সুদর্শনের ৮১,  ঋষাভ পান্ত ৮১ এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ফিফটিতে ভারতের ইনিংস আরও শক্তিশালী ভিত্তি পায়। সব মিলিয়ে ৮ উইকেটে ৫৬৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।

বিশাল এই স্কোরের সামনে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে রহমত শাহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ৬০ রান ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দাঁড়াতে পারেননি। বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে আফগানিস্তান থেমে যায় মাত্র ১৫২ রানে। সেই ধসের মূল কারিগর ছিলেন মানাভ সুথার। একাই তুলে নেন ছয় উইকেট। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাও গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট শিকার করেন।

৪১২ রানে পিছিয়ে থেকে ফলো-অনে পড়া আফগানিস্তানের সামনে তখন শুধু লড়াই করে ম্যাচটাকে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও দেখা গেল একই চিত্র। সেদিকুল্লাহ  অটল ৪২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও অন্য প্রান্তে উইকেট হারানোর মিছিল থামেনি।

ওয়াশিংটন সুন্দর চার উইকেট শিকার করেন, আর সুথারের ঝুলিতে যায় আরও এক উইকেট। তাতেই দ্বিতীয়বার আফগানরা গুটিয়ে যায় ১১২ রানে। ফলে ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে ভারত।

এই জয়ের মাধ্যমে পুরোনো রেকর্ডও ভেঙে ফেলেছে ভারত। এর আগে ২০১৮ সালে রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ২৭২ রানে হারানো ছিল তাদের সবচেয়ে বড় টেস্ট জয়। এবার সেই রেকর্ডকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল ভারত।

টি-টোয়েন্টির ব্যস্ত সূচির মাঝেও লাল বলের ক্রিকেটে যে ভারতের ব্যাটাররা এখনো সমান স্বচ্ছন্দ, তা দেখিয়েছেন গিল-রাহুলরা। আর বল হাতে মানাভ সুথার প্রমাণ করলেন, ভারতের স্পিন ভাণ্ডারে আরেকটি ভয়ংকর অস্ত্র যোগ হয়েছে। নিউ চণ্ডীগড়ে আফগানিস্তানকে বিধ্বস্ত করার এই ম্যাচ তাই শুধু জয় নয়, ভারতের শক্তির প্রদর্শনীও।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link