মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৯০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। গ্রুপ পর্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচটি ছিল চরম উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় ভরপুর।
ম্যাচের শুরুতে মরক্কোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট, যেখানে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বেশ ছন্নছাড়া ও দিশেহারা মনে হচ্ছিল। বারবার ভুল পাস, লক্ষ্যভ্রষ্ট শট এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতায় ব্রাজিলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল মরক্কো। ২১তম মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো, যা ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি নড়বড়ে করে দেয়।
তবে ৩২ মিনিটে বক্সের বা পাশ থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই গোলটি পাওয়ার পর ব্রাজিল যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় এবং ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করে। ভিনির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতায় ফেরার পর মরক্কোর রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে ওঠে এবং দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধে ক্যাসেমিরো ও ইবানেজ হলুদ কার্ড দেখায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাদের তুলে নিয়ে ফাবিনহো ও দানিলোকে মাঠে নামান, যা ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে কিছুটা স্থিতিশীল করে।
ম্যাচের একপর্যায়ে গুইমারায়েস ও হাকিমির মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর ইনজুরির কারণে খেলায় সাময়িক বিরতিও দেখা দেয়। পুরো ম্যাচে ব্রাজিল ৫২ শতাংশ বল দখলে রাখলেও শট নেওয়ার ক্ষেত্রে মরক্কো ছিল এগিয়ে, যারা মোট ১৪টি শট নিয়ে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক এলিসনকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় ফেলে।
শেষ পর্যন্ত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এই তীব্র লড়াই কোনো জয়ী ছাড়াই ১-১ ড্র দিয়ে শেষ হয়। বিশ্বকাপে কোনো দলই যে কাউকে ছাড় দেওয়ার পাত্র নয়, এই ম্যাচটি তার বড় প্রমাণ।












