মরক্কোর মিডফিল্ডে নতুন যুগের সূচনা হলো আজ রাতে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সবার নজর কেড়ে নিলেন মাত্র ১৮ বছর বয়সি আয়ুব বোয়াদি। ১–১ ড্রতে শেষ হওয়া ম্যাচটিতে দলের হয়ে যে পারফরম্যান্স দিলেন এই তরুণ, তা অনেক অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকেও লজ্জায় ফেলার মতো।
পুরো ম্যাচে ৮৬ বার বল স্পর্শ, ৯১ শতাংশ পাস নির্ভুলতা, ৯টি ডুয়েল জয়, ৬ বার বল উদ্ধার এবং ৪টি ট্যাকেল — এই সংখ্যাগুলো শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি গল্প। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মিডফিল্ডকে কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি, একাই।
তবে আয়ুব বোয়াদির এই পারফরম্যান্স কোনো আকস্মিক বিস্ময় নয়। ফ্রান্সের সেনলিস শহরে জন্ম নেওয়া এই তরুণ লিলে ক্লাবে তিন মৌসুমে ৯০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার। ২০২৩ সালে মাত্র ১৬ বছর ৩ দিন বয়সে ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় নেমে ইতিহাস গড়েছিলেন — সেটি ছিল ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড।

ক্যারিয়ারের শুরুটা অবশ্য ফ্রান্সের পতাকা বুকে নিয়েই। অনূর্ধ্ব–২১ দলের হয়ে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই ম্যাচে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও পরেছিলেন তিনি। কিন্তু এর পরেই ঘটে বড় মোড়। মরক্কান বংশোদ্ভূত হওয়ায় দুই ফেডারেশনের মধ্যে শুরু হয় তাকে পাওয়ার লড়াই। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের মে মাসে FIFA-র অনুমোদনে মরক্কো জিতে নেয় এই দড়ি টানাটানি। বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ২৬ জনের স্কোয়াডে নাম উঠল বোয়াদির।
এই ধারা অবশ্য মরক্কোর জন্য নতুন নয়। ইসা ডিওপ, রায়ানে বৌনিদা — ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত তারকাদের নিজেদের কাছে টেনে আনতে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে সফল হয়েছে আটলাস লায়ন্স। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত এই মডেলের সাফল্যই দেখেছে বিশ্ব।
আজ রাতে মেটলাইফে বোয়াদি যা করলেন, তাতে মনে হচ্ছে সেই মডেলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নমুনা হতে চলেছেন এই ১৮ বছরের তরুণ। গ্রুপ সি–তে ব্রাজিলকে আটকে দেওয়া দলের মেরুদণ্ড ছিলেন তিনি। সামনে হাইতি আর স্কটল্যান্ড। তারপর হয়তো আরও বড় মঞ্চ। বোয়াদির গল্প সবে শুরু।












