নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ রাতে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ শেষ হলো ১–১ গোলে। কিন্তু মাঠের ভেতরের লড়াইয়ের বাইরেও আলাদা দুটো মুহূর্ত আজ রাতের গল্প হয়ে থাকবে — আর দুটোর কেন্দ্রেই একজন মানুষ, নেইমার।
ভিনিসিয়াস জুনিয়র যখন ৩২ মিনিটে সমতা ফেরালেন, ডাগআউটে থাকা নেইমার যেন নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। আসন ছেড়ে উঠে হাত তুলে, আঙুল পয়েন্ট করে, চওড়া হাসিতে উদযাপন করলেন তিনি। স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক সেই মুহূর্তে একবারের জন্য হলেও ভুলে গেলেন, লোকটা আসলে খেলছেনই না।
তারপর ম্যাচ শেষে এলো দ্বিতীয় মুহূর্ত। প্রতিপক্ষের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি নিজের গায়ের জার্সি খুলে সরাসরি তুলে দিলেন নেইমারের হাতে। ফুটবলের ভাষায় এটা শুধু জার্সি বিনিময় নয়, এটা সম্মান।

কিন্তু হাকিমির এই বিশেষ ভালোবাসার পেছনে রয়েছে এক পুরনো গল্প। ২০২১ সালে হাকিমি যখন পিএসজি-তে যোগ দেন, তখন থেকেই দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে আন্তরিক সম্পর্ক। ট্রেনিং সেশনে একে অপরকে পাস দেওয়া, গোল করা, মাঠের ভেতরেও তাঁদের রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। একবার মাঠে উত্তেজনায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেটা বেশিক্ষণ টেকেনি। নেইমার সোশ্যাল মিডিয়ায় হাকিমির সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন — “ভাই, ভুল বোঝাবুঝি হয়, কিন্তু বন্ধুত্ব থাকে।” হাকিমিও একই সুরে সাড়া দিয়েছিলেন।
পিএসজি-র সেই দিনগুলো এখন অতীত। নেইমার ক্লাব বদলেছেন, হাকিমিও এগিয়ে গেছেন। কিন্তু আজ রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই পুরনো বন্ধুত্বটা আবার উঁকি দিল।
নেইমার এই বিশ্বকাপে এখনও মাঠে নামতে পারেননি। হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ লড়াই করে স্কোয়াডে ফিরেছেন, কিন্তু ফিটনেস এখনও পুরোপুরি আসেনি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদী, আগামী সপ্তাহে হাইতির বিপক্ষে হয়তো দেখা মিলবে তাঁর। ততদিন ডাগআউট থেকেই সতীর্থদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন এই ৩৪ বছরের তারকা।

আজ রাতের দুটো মুহূর্ত তাই শুধু আবেগের ছবি নয় — একজন যোদ্ধার বার্তাও। মাঠে না থেকেও যিনি বলে দিচ্ছেন, আমি আছি।











