বিশ্বকাপের শুরুতেই নতুন দুই বিস্ময়

২০২৬ আসরে আমরা এখন এমন দুই কিশোরের সাক্ষ্য পাচ্ছি, যাদের পায়ের ছন্দ আর বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনের ফুটবলে রাজত্ব করার আগাম বার্তা দিচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই নতুন কোনো মহাকাব্যের সূচনা। ২০২৬ আসরে আমরা এখন এমন দুই কিশোরের সাক্ষ্য পাচ্ছি, যাদের পায়ের ছন্দ আর বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনের ফুটবলে রাজত্ব করার আগাম বার্তা দিচ্ছে। আইভরি কোস্টের ইয়ান দিওমান্দে এবং মরক্কোর আইয়ুব বুআদ্দি। শুরুর ম্যাচেই তারা নিজেদের প্রমাণ করেছেন।

​ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের ১-০ গোলের জয়টি যেন ছিল দিওমান্দের একক নৈপুণ্যের প্রদর্শনী। বুন্দেসলিগার সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে আলো ছড়ানো এই ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার যখন বল পায়ে দৌড়ান, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। লিভারপুলের মতো বড় ক্লাব এখন তাকে নিয়ে আগ্রহী।

​অন্যদিকে, মরক্কোর মাঝমাঠে আইয়ুব বুআদ্দি যেন এক শান্ত সমুদ্র। ব্রাজিলের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে তাঁর এমন শীতল মস্তিষ্কের পারফরম্যান্স বিস্ময় জাগানিয়া।

১৮ বছর বয়সে একজন মিডফিল্ডারের যে পরিপক্কতা প্রয়োজন, তার সবটুকুই ঝরেছে বুআদ্দির পায়ে। ৬৬টি পাসের মধ্যে ৯০.৭ শতাংশ পাসই সফল।

ইতোমধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নজিরও রয়েছে তাঁর। সবমিলিয়ে তিনি এখন দলের অন্যতম চালিকাশক্তি। অবশ্য কোচ মোহাম্মদ ওহাবির মতে, ‘সে তো কেবল নিজের প্রতিভার জানান দিল মাত্র।’

​বিশ্বকাপের মঞ্চ নতুন হিরো খুঁজে নেয়, আর দিওমান্দে-বুআদ্দি সেই মুকুটের দাবিদার হয়ে উঠেছেন প্রথম ম্যাচেই। ফুটবল যখন শিল্প হয়ে ওঠে, তখন বয়সের চেয়েও মেধা বড় হয়ে দাঁড়ায়। তাদের এই দুর্দান্ত শুরু মরক্কো ও আইভরি কোস্টের সমর্থকদের মনে নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই দুই বিস্ময়বালক কতদূর যান, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link