এবারের বিশ্বকাপকে গোলবন্যার বিশ্বকাপ বললেও খুব সম্ভবত কোনো ভুল হবে না। এক আসরে যত গোল হতে পারে তার সকল অতীত রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। দল বেড়েছে, ম্যাচ বেড়েছে; আর এত সাথে পাল্লা দিয়ে অনেকগুণে বেড়ে চলেছে গোলের সংখ্যা।
বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরে গোল হয়েছিল ৭০টি করে। যদিও তখন দল আর ম্যাচের সংখ্যা, দুইটাই ছিল অনেক কম। তবে, সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায় ১৯৫৪ সালে এসে। ১৬ দলের মাত্র ২৬ ম্যাচের সেই আসরে গোল হয় ১৪০টি। গড় করে দেখলে ম্যাচপ্রতি গোল ৫.৩৮টি করে! এমনকি এর পরের বিশ্বকাপেও প্রতি ম্যাচে গোল হয়েছে ৩.৬ বার।
এরপরের কয়েক আসরে অবশ্য সেই গোলের বিস্ফোরণ দেখা যায়নি। এমনকি ১৯৬২ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত, টানা চার আসরে গোলসংখ্যা তিন অংকের ঘর অবধিও যেতে পারেনি। তবে, ১৯৭৮ থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গোল হওয়ার প্রবণতা।

১৯৯৮ সাল থেকে দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২-এ। ম্যাচ হতে থাকে ৬৪টি করে। এই আসরগুলোতে গোলসংখ্যা কমবেশি করে হলেও কখনো ১৭০ এর ঘরের বাইরে যেতে পারেনি। সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে হওয়া ১৭২ গোল ছিল এবারের বিশ্বকাপের আগে সংখ্যার দিক দিয়ে সবার উপরে।
অংশ নেওয়া দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮-এ যেতেই সব হিসাব-নিকাশ পালটে গেল। গ্রুপপর্বের সকল খেলাও এখনো শেষ হয়নি। হয়েছে ৬৬টি ম্যাচ। এর মধ্যেই বল জালে স্পর্শ করেছে ১৯২ বার। ফাইনাল শেষ হতে হতে আরও বাকি রয়ে গেছে ৩৮টি ম্যাচ। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর গোলের সংখ্যা ৩০০ ছুঁয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
কেবলমাত্র ম্যাচ আর দেশের সংখ্যা বাড়ার কারণেই যে গোলের সংখ্যা বেড়ে গেছে তা কিন্তু নয়। বেশি দল-বেশি ম্যাচ একটা ফ্যাক্টর হলেও পরিসংখ্যান দেখতে গেলে আপনি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, এবার আসলেই বেশি গোল হচ্ছে। ১৯৬২ সাল থেকে ধরতে গেলে এবারই সবচেয়ে বেশি হারে গোল দেখা যাচ্ছে। প্রতি ম্যাচে প্রায় ২.৯১ বার গোলরক্ষকেরা পরাস্ত হচ্ছেন।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে ফুটবল। দুই দলই ডিফেন্সিভ স্টাইলে খেলে যাচ্ছে এমন চিত্র এখন আর ভুলেও আপনার নজরে পড়বে না। তাই তো, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা এবার ফুটবল দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন গোলের ডালা নিয়ে।










