আর্লিং হাল্যান্ড দেখিয়ে দিলেন, একজন ফুটবলার কতটা মানুষকে কতটা প্রভাবিত করতে পারেন। কারণ, তাঁর খেলা দেখে শত শত বাবা-মা নিজেদের সন্তানের নামই রেখে দিলেন নরওয়ের এই কিংবদন্তির নামে।
একটা বিশ্বকাপে খেললেন পাঁচটি ম্যাচ। করলেন সাতটি গোল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মনে রাখবে আর্লিং হালান্ডকে। সবচেয়ে বেশি সম্ভবত মনে রাখছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু। বিশ্বকাপে নরওয়ে তারকার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর দেশটিতে ৪৬৮ নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে হাল্যান্ড। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে ৯১ শিশুর পুরো নামটাই রাখা হয়েছে এই তারকার নামে।
হাল্যান্ড বিশ্বকাপ শুরু করেছিলেন ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে। এরপর সেনেগালের বিপক্ষেও করেন আরও দুটি গোল। নকআউটে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে করেন জয়সূচক গোল। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে হয়ে ওঠেন পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় আলোচনার নাম। যদিও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় নরওয়ে, তবু হাল্যান্ডের ছাপ রয়ে যায় বিশ্বকাপজুড়েই।

সেই ছাপ স্পষ্ট দেখা গেছে পেরুর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন দপ্তরের তথ্যেও। সংস্থাটির মুখপাত্র ইভান তোরেস জানিয়েছেন, ফুটবল তারকারা প্রায়ই পেরুর বাবা-মায়েদের সন্তানদের নাম বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করেন। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘হাল্যান্ড’ নামের নিবন্ধন দ্রুত বাড়তে থাকে। আর ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর সেই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
অবশ্য ফুটবলারের নামে সন্তানের নাম রাখার সংস্কৃতি পেরুতে নতুন নয়। দেশটিতে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম ‘মেসি’। ১ হাজার ১৮৫ জনের নাম ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’। ১ হাজার ২৪১ জনের নাম ‘ইয়ামাল’। আর সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম এখনো ‘নেইমার’। এই নামে পরিচিত প্রায় ৩৩ হাজার ৮০৯ জন পেরুভিয়ান।
২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার নিজের প্রথম বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন দুর্দান্তভাবে। পাঁচ ম্যাচে করেছেন সাত গোল। কোয়ার্টার বাদে প্রতিটি ম্যাচেই খুঁজে পেয়েছেন জালের ঠিকানা। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়েকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তুলেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

হাল্যান্ডের জাদু কোনোদিন হয়তো থেমে যাবে, কিন্তু এই শিশুদের নামের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। এটাই ফুটবলের অফুরন্ত সৌন্দর্য্য।










