লর্ডসের ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত টেস্ট রোমাঞ্চ!

১৯৮৬ সালের জুলাই মাস, লর্ডসের গ্যালারিতে ছিলেন এক সাবেক ক্রিকেটার। বয়স ৪৫। হাতে কোনো গ্লাভস নেই, পরনে খেলোয়াড়ের পোশাকও নেই। তিনি এসেছিলেন স্রেফ দর্শক হয়ে, ম্যাচের স্পন্সরদের হয়ে কিছু কাজ সারতে। কে জানত, সেদিন বিকেলের মধ্যেই তাকে আবার পরতে হবে উইকেটকিপিংয়ের গ্লাভস, অবসর ভেঙে ফিরতে হবে ক্রিকেট মাঠে — এমন এক গল্পের নায়ক হয়ে উঠবেন, যা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম অদ্ভুত অধ্যায় হয়ে থাকবে।

১৯৮৬ সালের জুলাই মাস, লর্ডসের গ্যালারিতে ছিলেন এক সাবেক ক্রিকেটার। বয়স ৪৫। হাতে কোনো গ্লাভস নেই, পরনে খেলোয়াড়ের পোশাকও নেই। তিনি এসেছিলেন স্রেফ দর্শক হয়ে, ম্যাচের স্পন্সরদের হয়ে কিছু কাজ সারতে। কে জানত, সেদিন বিকেলের মধ্যেই তাকে আবার পরতে হবে উইকেটকিপিংয়ের গ্লাভস, অবসর ভেঙে ফিরতে হবে ক্রিকেট মাঠে — এমন এক গল্পের নায়ক হয়ে উঠবেন, যা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম অদ্ভুত অধ্যায় হয়ে থাকবে।

গল্পের শুরুটা অবশ্য দুর্ঘটনা দিয়ে। ইংল্যান্ডের নিয়মিত উইকেটকিপার ব্রুস ফ্রেঞ্চ রিচার্ড হ্যাডলির একটা বলে আঘাত পেয়ে সোজা চলে যান হাসপাতালে। মাঠের মধ্যে তখন হুড়োহুড়ি — কে দাঁড়াবে স্টাম্পের পেছনে? প্রথম সমাধান আসে সাময়িক এক ব্যবস্থা হিসেবে। বিল অ্যাথে হাতে তুলে নেন গ্লাভস, কিন্তু সেটা টেকে মোটে দুই ওভার।

আর তারপরেই আসে গল্পের আসল মোড়। মাঠের বাইরে, গ্যালারির ভিড়ে বসে থাকা সেই ৪৫ বছর বয়সী সেই বব টেইলর। ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার, যিনি বছরের পর বছর গ্লাভস ছেড়ে দিয়েছেন, সেদিন এসেছিলেন নিছক দর্শক হয়ে। তাকেই খুঁজে বের করা হয় গ্যালারি থেকে, আর অবসর ভেঙে নামিয়ে দেওয়া হয় মাঠে। বব টেলর এমনভাবে স্টাম্পের পেছনে দাঁড়ালেন, যেন সময়টা থমকে গিয়েছিল তার জন্য — যেন তিনি কখনো গ্লাভসই খোলেননি।

কিন্তু নাটক এখানেই শেষ নয়। পরের দিন দুপুরের পর দায়িত্ব বদলে যায় আবার। এবার গ্লাভস ওঠে হ্যাম্পশায়ারের ববি পার্কসের হাতে। আর চতুর্থ দিনে যখন ব্রুস ফ্রেঞ্চ হাসপাতাল থেকে ফিরে মাঠে নামেন, ভাগ্য তার সঙ্গে নিষ্ঠুর রসিকতা করে বসে — গোটা ইনিংসে তিনি কিপিং করার সুযোগ পান মাত্র একটা ডেলিভারি, আর সেটাই ছিল নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের একদম শেষ বল।

এক টেস্টে চারজন উইকেটরক্ষক — ক্রিকেট ইতিহাসে যা রীতিমতো বিরল ঘটনা। আর সবচেয়ে মজার তথ্যটা লুকিয়ে আছে শেষে। এই চারজন কিপার মিলে গোটা টেস্টে একটাও ক্যাচ ধরতে পারেননি। যেন লর্ডসের সেই টেস্ট নিজেই ঠিক করে রেখেছিল, গ্লাভস বদলাবে, হাত বদলাবে, কিন্তু ক্যাচ কারো হাতেই জমা হবে না।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link