মেসি ফিরলেন স্বমহিমায়!

ফ্রি কিক থেকে জোড়া গোল, তিন-চারজনকে ফাঁকি দিয়ে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে দেওয়া, কে বলবে লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় দাঁড়িয়ে। অমরত্ব যাকে ধাওয়া করছে, তার কি আর শেষ আছে? না, নেই। মেসির ম্যাজিক আজীবন বাক্সবন্দি করে তুলে রাখা, যা অক্ষয়।

এই তো কদিন আগে হারিয়েছেন বাবাকে, সবাই ধরে নিয়েছিল লিওনেল মেসি ভেঙেচুরে গেছেন। হয়তো মাঠে ফেরা হবে না সহজেই। মেসি ফিরেছেন। তবে মানসিক অবসাদটা লেগেছিল চোখেমুখে। প্রভাব পড়েছিল পারফরম্যান্সে। তার ওপর টানা পাঁচ ম্যাচে দল পায়নি জয়ের দেখা। সব কিছু যেন পাহাড় হয়ে ধেয়ে আসছিল মেসির দিকে। তবে মেসি সেই চাপের পাহাড় ডিঙিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সবকিছুকে ছাপিয়ে নিজের সিংহাসনে আসীন হয়েছেন। চারখানা গোল করে জয় এনে দিয়েছেন ইন্টার মিয়ামিকে।

ফ্রি কিক থেকে জোড়া গোল, তিন-চারজনকে ফাঁকি দিয়ে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে দেওয়া, কে বলবে লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় দাঁড়িয়ে। অমরত্ব যাকে ধাওয়া করছে, তার কি আর শেষ আছে? না, নেই। মেসির ম্যাজিক আজীবন বাক্সবন্দি করে তুলে রাখা, যা অক্ষয়।

মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে গোলের সূচনা অবশ্য ক্যাসিমিরো করেছিলেন। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে করা গোলটায় লিড এনে দেয় মেসিদের। তবে ৩৭ মিনিটে সমতায় ফেরে মন্ট্রিয়েল। স্কোরলাইন এক-এক দেখে মেসি ভ্রু কুঁচকালেন। মিনিট তিনেক বাদেই হাজির হলেন জাদু নিয়ে।

ডান প্রান্তে একটা ফ্রি কিক পেল মিয়ামি। যথারীতি মেসির ঘাড়েই দায়িত্ব বর্তালো। গোল করার মতো আদর্শ জায়গা নয়। তবে নামটা যেহেতু মেসি, সেখানে আর কোনো অসম্ভব থাকে কি? কিক নিলেন, বল জড়িয়ে গেল প্রতিপক্ষের জালে। সেই শুরু, বাকিটা মেসির ইতিহাস।

হাফ টাইম শেষে মেসি ফিরে গেলেন বছর দশেক আগে। সেই রান, সেই ড্রিবলিং। ৫২ মিনিটের মাথায় দুইজনকে বোকা বানিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকলেন, বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনজন। মেসি থোড়াই কেয়ার। পায়ের সাথে বলটা যেন কেউ আঠা দিয়ে আটকে দিয়েছে। মেসি সহজেই বোকা বানালেন তিনজনকে। ব্যস, বাকি রইল এক গোলরক্ষক। ডান পায়ে নেওয়া মেসির শট তিনি কেবল দেখলেন। বলের ঠিকানা হলো জাল।

৮০ মিনিটের মাথায় মেসি সিদ্ধান্ত নিলেন এবার আর গোল করবেন না, করাবেন। বল পেয়ে সুয়ারেজকে বানিয়ে দিলেন। ওত পেতে থাকা সুয়ারেজ ভুল করলেন না। দুই গোলের সাথে এক অ্যাসিস্ট। এই পর্যন্ত গল্পটা কম মাহাত্ম্যপূর্ণ ছিল না। তবে মেসির তৃষ্ণা মেটেনি তখনও। গোলের নেশায় মত্ত তিনি। আদিম ক্ষুধা জেঁকে বসেছে তার ওপর। ৩৯ পেরোনোর পর তাই ছেলে-ছোকরাদের টেক্কা দিচ্ছেন অনায়াসে, হেসে-খেলে।

৮৩ মিনিটের মাথায় ষোলকলা পূর্ণ হলো মেসির। চিপ শটে গোলরক্ষককে আরও একবার অসহায় বানিয়ে নিজের হ্যাটট্রিকটা তুলে নিলেন জাদুকর। অবিশ্বাস খেলা করেছে গোটা স্টেডিয়ামজুড়ে। প্রতিপক্ষ ভেঙেচুরে চুরমার। কী করার! মেসির সামনে দাঁড়ানোর সাধ্য আছে কার? ফুটবল মাঠে ২০ বছর ধরেই তো চলছে তার রাজত্ব, শেষ বেলায়ও সিংহের গর্জন একটুও কমেনি, বরং এমন উচ্চতায় দাঁড়িয়ে তিনি, যেখানে তাঁকে ছোঁয়া যাবে না কোনোভাবেই।

তাই তো শেষ বাঁশি বাজার আগেই ফ্রি কিক পেলেন নিজের পছন্দসই জায়গায়। আরও একবার অপলক তাকিয়ে দেখল গোটা দুনিয়া। আবারও কেঁপে উঠল প্রতিপক্ষের জাল। গুনে গুনে চারখানা গোল। মেসি বলেই সম্ভব। এমন দিন গোল উৎসবেও মেতেছে মিয়ামি। ব্যর্থতা থেকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে মন্ট্রিয়েলকে ভাসিয়ে দিয়েছে ৭-১ গোলের ব্যবধানে। সমস্ত যন্ত্রণা ঝরে পড়েছে মেসির গা থেকে। তাকে যে ফিরতেই হতো। দায়বদ্ধতা চাইলেও এড়ানো যায় না। তবে যে সময়কে তিনি পার করে এসেছেন, যে লড়াই মাঠের বাইরে করে এসেছেন, তা শুধু মেসি পারেন, কেবল মেসির পক্ষেই সব অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link