অবাক করা মোহাম্মদ রুবেল!

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রশ্ন আসতে পারে, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশকে কী দিয়েছে? সহজ উত্তর, মোহাম্মদ রুবেলকে। সাত ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়েছেন। তবে এই ২৩ উইকেটের মাহাত্ম্য ভাষায় বর্ণনা করা কষ্টসাধ্যই। একটু চোখ রাখা যাক আসরজুড়ে রুবেলের পারফরম্যান্সের ওপর।

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রশ্ন আসতে পারে, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশকে কী দিয়েছে? সহজ উত্তর, মোহাম্মদ রুবেলকে। সাত ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়েছেন। তবে এই ২৩ উইকেটের মাহাত্ম্য ভাষায় বর্ণনা করা কষ্টসাধ্যই। একটু চোখ রাখা যাক আসরজুড়ে রুবেলের পারফরম্যান্সের ওপর।

টিপিক্যাল অফস্পিনার। এই পরিচয়টা তার ক্রিকেট প্রোফাইলে দেওয়া। আধুনিক ক্রিকেটের যুগে এইসব স্পিনারদের কদর খুব একটা দিতে চান না কেউ। মারকাটারি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তো একেবারেই সাদামাটা চোখে দেখা হয়। হ্যাঁ, যদি ব্যাট হাতে টুকটাক কাজ চালিয়ে দিতে পারেন কেউ, সেক্ষেত্রে অন্য কথা।

মোহাম্মদ রুবেল এখানেই ব্যতিক্রম এনেছেন। গতি আর ঘূর্ণির মিশেলে ব্যাটারকে ভড়কে দিচ্ছেন। টাইট লাইনে বল রাখা, উইকেট টু উইকেট আক্রমণ করা, সব মিলিয়ে দুর্দান্ত এক প্যাকেজ। তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ, যখনই প্রয়োজন, তখনই উইকেট এনে দেওয়ার ক্ষমতা।

সেমিফাইনালের মঞ্চেও সেই দৃশ্য দেখা গেল। ব্যাটাররা সংগ্রহ করেছে মাত্র ১০১ রান। পরাজয় এড়ানো সম্ভব নয়, তা তখনই বোঝা গিয়েছিল। তবুও মোহাম্মদ রুবেল চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রথম ওভারেই তাঁকে বল হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাতেই বাজিমাত। এরপর আবারও যখন চাপে পড়ে দল, ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখনই রুবেল এলেন ১৩তম ওভারের মাথায়। জোড়া শিকার করে আরও একবার ম্যাচে ফেরালেন বাংলাদেশকে। যদিও দিনশেষে পরাজয় মেনে নিতে হয় বাংলাদেশকে।

তবুও এই ব্যর্থতা ছাপিয়ে শেষদিনটা নিজের করেছেন রুবেল। সাত ম্যাচে ২৩ উইকেট তোলা, তাও টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে, সহজ ব্যাপার নয়। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় চোখ রাখলেই ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। ২৩ উইকেট নেওয়া রুবেল সবার উপরে, ইকোনমি ছয়ের নিচে। অন্যদিকে দুই নম্বরে থাকা জেইডেন লেনক্স শিকার করেছেন ১৩ উইকেট। পার্থক্যটাই পরিষ্কার করে দেয়, রুবেল কতটা অবিশ্বাস্য ছিলেন।

সাত ম্যাচের মধ্যে একবার ফাইফার, তিন উইকেট নিয়েছেন তিনবার, দুইবার চার উইকেট, মাত্র এক ম্যাচেই কেবল এক উইকেট নিয়েছেন। উইকেটশূন্য একদিনও তাঁর নেই। এমন ধারাবাহিকতা তাঁকে অতুলনীয় করে তুলেছে। অতিমানবীয় এই পারফরম্যান্সের পর তাঁকে নিয়ে ভিন্নভাবে না ভাবলেই যে নয়। এর যে একটাই পুরস্কার হয়, রুবেলের হাতে জাতীয় দলের টিকিট তুলে দেওয়া। এখন দেখার, এই রুবেলকে নিয়ে কী পরিকল্পনা করে রেখেছেন নির্বাচকরা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link