শততম ম্যাচের মঞ্চে সোবহানার একাকী সংগ্রাম!

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে যখন সোবহানা মোস্তারি মাঠে নামলেন, তখন তার কাঁধে এক অদৃশ্য মুকুট—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম ম্যাচের মুকুট। রংপুরের মেয়ে, যে একদিন পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ব্যাট হাতে দৌড়াত, আজ সেই পথ ধরে এসে দাঁড়িয়েছে এক শতাব্দীর চূড়ায়।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে যখন সোবহানা মোস্তারি মাঠে নামলেন, তখন তার কাঁধে এক অদৃশ্য মুকুট—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম ম্যাচের মুকুট। রংপুরের মেয়ে, যে একদিন পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ব্যাট হাতে দৌড়াত, আজ সেই পথ ধরে এসে দাঁড়িয়েছে এক শতাব্দীর চূড়ায়।

গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে, মাত্র তেরো বছর বয়সে, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনে যখন তার ব্যাট প্রথম কথা বলে উঠেছিল। তারপর বিকেএসপির কঠোর প্রশিক্ষণ, আর ২০১৮ সালের ১৪ মে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ষোলো বছর বয়সে অভিষেক—বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কনিষ্ঠ ওয়ানডে অভিষেকের নজির।

আজকের ইনিংসটা যেন এক নিঃসঙ্গ প্রহরীর গল্প। ইন্দোনেশিয়ার বোলাররা যখন একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছিল, চারপাশে যখন ধস নামছিল, তখন সোবহানা একাই দাঁড়িয়ে রইলেন ব্যাটে-বলে যুদ্ধ করে। ৪২ বলে ৪০ রান—দুটি চার, একটি ছক্কা—সংখ্যাগুলো সাধারণ শোনালেও, প্রেক্ষাপটে তারা হয়ে ওঠে অসাধারণ।

এই ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই শেষদিকে স্বর্না আক্তার খেলেন ঝড়ো এক ইনিংস, অপরাজিত ৩১ রান মাত্র ১৮ বলে। এই দুই ইনিংসের যোগফলে বাংলাদেশ থামে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৯ রানে—ইন্দোনেশিয়ার সামনে দাঁড়ায় ১৩০ রানের লক্ষ্য।

এই সোবহানাই সাত বছর আগের সেই কিশোরী, যিনি ২০২৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ রানের ইনিংস খেলেছিল, আর ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪২ বলে ৫৯ রানের ঝড় তুলে আইসিসির প্রশংসা কুড়িয়েছিল। পাঁচটি বিশ্বকাপ, একশোটি ম্যাচ, অসংখ্য উত্থান-পতন—তবু ব্যাট হাতে তার চোখ আজও সেই তেরো বছরের মেয়েটির মতোই উজ্জ্বল।

মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্যালারির করতালিতে হয়তো ধরা পড়েনি একটা সত্যি—শততম ম্যাচের এই ইনিংসটা কোনো শেষ বিন্দু নয়, বরং সোবহানা মোস্তারির পরের শত ম্যাচের ভূমিকা।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link