একসময় এশিয়ার ক্রিকেটে সবাই মিলে লড়াইয়ের মঞ্চ বলতে বোঝাত শুধু এশিয়া কাপ। এবার সেই ইতিহাসেই যোগ হচ্ছে নতুন এক পাতা—জাপানের নাগোয়ায় বসতে যাওয়া এশিয়ান গেমস, যেখানে সোনার পদকের লড়াইয়ে নামছে মহাদেশের সেরা ক্রিকেট শক্তিগুলো। আর এবার কেউই বিষয়টাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না।
ভারত ঘোষণা করেছে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দল, নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার, দলে আছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, সাঞ্জু স্যামসন, অক্ষর প্যাটেলের মতো তারকারা। ভারতের এই সিদ্ধান্ত দেখেই নীতিগতভাবে নিজেদের সেরা দল পাঠানোর পথে হেঁটেছে বাংলাদেশও—নির্বাচক নাদিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, চোট কাটিয়ে ফেরা মুস্তাফিজুর রহমানও থাকতে পারেন স্কোয়াডে, তবে চূড়ান্ত দল এখনো ঘোষিত হয়নি।
পাকিস্তানও পিছিয়ে নেই—সাহিবজাদা ফারহানের নেতৃত্বে সাইম আইয়ুবসহ বেশ কিছু পরিচিত মুখ রেখে গড়া হয়েছে শক্তিশালী দল। আফগানিস্তান দল ঘোষণা করলেও রশিদ খান বা ফজলহক ফারুকির মতো তারকাদের ছাড়াই নামছে দারউইশ রাসুলির নেতৃত্বে, তাদের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসতে হবে জাপান ও নেপালের সঙ্গে। শ্রীলঙ্কা এখনো দল প্রকাশ করেনি, যদিও সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট তাদের হাতে।

তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিতর্কের ছায়া পড়েছে আয়োজনে। নাগোয়ার কাছে নিসশিনের কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কের অপ্রস্তুত ভেন্যু, নতুন তৈরি এই গামিনি ডী সিলভার বানানো হাইব্রিড পিচ আর ছোট আকারের হোটেল রুম নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
ভারত ইতিমধ্যে এই অপরীক্ষিত পিচ নিয়ে সরাসরি আপত্তিও জানিয়েছে। চাপের মুখে শেষমেশ মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে আয়োজক কমিটি, পরিকাঠামো নিয়ে সাফাইও দিয়েছে তারা। এই নতুন, অচেনা পিচে বল আসলে কেমন আচরণ করবে—স্পিন ধরবে নাকি গতি পাবে পেসাররা—সেই উত্তর মিলবে মাঠেই।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে পুরো আসর, ক্রিকেটের লড়াই হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে। র্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি নামবে কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রশ্ন একটাই—এশিয়া কাপের ছায়া থেকে বেরিয়ে এই নতুন মঞ্চে সোনার পদকের গৌরব এবার কার ঘরে উঠবে?












