আর্সেনাল আপনাকে হয়তো আনন্দদায়ক ফুটবল দিবে না, একের পর এক গোল দিবে না। তবুও মিকেল আর্তেতার ডিফেন্সিভ মাস্টারস্ট্রোকে ম্যাচ ঠিকই বের করে নিবে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও যেন ঠিক চিরচেনা আর্তেতা। যেখানে নন্দনকাননের চেয়ে কাজের কৌশলই দিনশেষে ফল নির্ধারণ করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের স্ট্রাকচারে স্পষ্ট ছিল জয়ের প্রতি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি। আর্তেতা তাঁর ৪-২-৩-১ বিন্যাসে ডেকলান রাইস ও মিকেল মেরিনোকে মিডফিল্ডের নো-ফ্লাই জোন হিসেবে ব্যবহার করেন, যেন দলের সেন্ট্রাল স্পেস পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে অ্যালগ্রির নাপোলি বেছে নিয়েছিল ৪-৩-৩ মিড-ব্লক। কেভিন ডে ব্রুইন, স্ট্যানিস্লাভ লবোটকা ও বিলি গিলমোরকে দিয়ে সাজানো তাদের সেন্ট্রাল ট্রায়াঙ্গেলটি আর্সেনালকে ইচ্ছে করেই বাইরের উইংয়ে বল খেলতে বাধ্য করছিল।

প্রথম অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ আর্সেনালের পায়ে থাকলেও খেলার গতি ছিল ধীর ও সংযত। নাপোলির মূল লক্ষ্য ছিল নিজেদের অর্ধে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলে রাসমুস হয়লুন ও মাত্তেও পোলিটানোর গতি কাজে লাগিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া। কিন্তু গানার্সদের দুই সেন্টারব্যাক গাব্রিয়েল ও এজরি কোন্সার সুশৃঙ্খল পজিশনিং নাপোলির সেই সুযোগগুলোকে ফাইনাল থার্ডে ওঠার আগেই ধ্বংস করে দেয়।
ম্যাচের সবচেয়ে চমৎকার কৌশলগত মোড় আসে ৬৫তম মিনিটে আর্তেতার একটি সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তে। আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করতে তিনি এবারেশি এজেকে তুলে নামিয়ে দেন গ্রিক উইঙ্গার ক্রিস্টোস জলিসকে। জলিস মাঠে এসেই ওয়াইড উইংয়ে ওভারলোড তৈরি করতে শুরু করেন, যা এতক্ষণ ধরে শক্ত থাকা নাপোলির রক্ষণাত্মক শেপকে একপাশে টেনে ভেঙে দেয়।
ঠিক এই ফাঁকটাকেই কাজে লাগায় আর্সেনাল। ৭৫তম মিনিটে নাপোলির ব্যাকলাইন যখন জলিসের ওয়াইড পজিশনিং কাভার করতে ব্যস্ত, তখন হাফ স্পেসে সম্পূর্ণ আনমার্কড অবস্থায় জায়গা পেয়ে যান অধিনায়ক মার্টিন অডেগার্ড। জলিসের বক্সে পাঠানো বাড়তি পাস থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙেন অডেগার্ড।

গোল পাওয়ার পরপরই আর্তেতা দলকে একধাপ পিছিয়ে নিয়ে একটি দুর্ভেদ্য লো ব্লক ডিফেন্সে রূপান্তর করেন। নাপোলি শেষ দিকে আক্রমণে চাপ বাড়ালেও আর্সেনালের সেই রক্ষণ প্রাচীর ভাঙার কোনো পথই খুঁজে পায়নি। গোলের বন্যা না ভাসিয়েও কেবল সুশৃঙ্খল রক্ষণ ও কৌশলগত পরিপক্কতা দিয়ে কীভাবে কঠিন ম্যাচ বের করে নিতে হয়, আর্তেতার আর্সেনাল আবারও তা প্রমাণ করল।











