ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ঋতুরাজের বীরত্ব!

রোহিত শর্মা, শুভমান গিল আর বিরাট কোহলি একসাথে খেলেন, এমন একাদশে নিজের জায়গা পাকা করা কিংবা রান করার সুযোগ পাওয়া মোটেও সহজ নয়। ঋতুরাজ গায়কোয়াড় সেটা ভালো করেই জানেন, আর  যখন সুযোগটা এল, তিনি দেখিয়ে দিলেন দায়িত্ব নিয়ে কীভাবে খেলতে হয়। ক্রিজে নামলেন যখন স্কোরবোর্ডে ৪ রানে ২ উইকেট, গিল আর কোহলি দুজনেই ফিরে গেছেন, গ্যালারি স্তব্ধ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ চেপে ধরেছে।

রোহিত শর্মা, শুভমান গিল আর বিরাট কোহলি একসাথে খেলেন, এমন একাদশে নিজের জায়গা পাকা করা কিংবা রান করার সুযোগ পাওয়া মোটেও সহজ নয়। ঋতুরাজ গায়কোয়াড় সেটা ভালো করেই জানেন, আর  যখন সুযোগটা এল, তিনি দেখিয়ে দিলেন দায়িত্ব নিয়ে কীভাবে খেলতে হয়। ক্রিজে নামলেন যখন স্কোরবোর্ডে ৪ রানে ২ উইকেট, গিল আর কোহলি দুজনেই ফিরে গেছেন, গ্যালারি স্তব্ধ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ চেপে ধরেছে।

অন্য প্রান্তে রোহিত শর্মা হাল ধরে দাঁড়িয়ে, আর ঋতুরাজ বুঝে নিলেন তাঁর কাজটা কী। নিজে বড় শট খেলে নায়ক হওয়ার চেষ্টা করলেন না, বরং রোহিতের ওপর চাপ যেন না বাড়ে সেদিকেই নজর রাখলেন, যতটা পারলেন স্ট্রাইক ছেড়ে দিলেন। ১১তম ওভারে তাঁর রান ছিল ১৮ বলে ৫, তবু তাড়াহুড়ো করলেন না। কারণ ওই মুহূর্তে স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর চেয়ে ক্রিজে টিকে থাকা অনেক বেশি জরুরি ছিল।

ভাগ্যও তাঁর দিকে ছিল, সেটা না বললে গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, হোপ, জাঙ্গু আর লজ মিলিয়ে চারবার ক্যাচ ফেলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, একবার তো ছক্কাই হয়ে গেল ক্যাচ মিস থেকে। কিন্তু জীবন পাওয়াটাই সব নয়, সেই জীবন কাজে লাগাতে জানতে হয়। ঋতুরাজ সেইটাই করে দেখিয়েছেন,  রোহিতের সঙ্গে গড়লেন একশো ছাড়ানো জুটি, পাওয়ারপ্লের ধাক্কা সামলে ভারতকে টেনে তুললেন ম্যাচে, আর ৬৪ বলে পূর্ণ করলেন নিজের পঞ্চাশ।

এই ধৈর্যের গল্প ঋতুরাজের ক্যারিয়ারের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। চেন্নাইয়ের হয়ে আইপিএলে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছেন, এশিয়ান গেমসে অধিনায়ক হয়ে সোনা এনেছেন ২০২৩ সালে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরিও করেছেন। তবু ভারতের তারকাখচিত দলে তাঁর জায়গা কখনো সহজে আসেনি, সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বারবার। একাদশে থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছেন বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের সামর্থ্য।!

শেষ পর্যন্ত ৬৯ বলে ৫৭ রানে সিলসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন, সঙ্গে চারটা ছক্কা। হয়তো বড় ইনিংস হলো না, স্ট্রাইক রেটও চোখ ধাঁধানো নয়। কিন্তু যে ম্যাচে ভারত ৪ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল, সেখানে দুইশো পেরিয়ে যাওয়ার পেছনে এই ইনিংসটার অবদান অনেক। কিছু ইনিংস পরিসংখ্যানে ছোট দেখায়, অথচ দলের জন্য সেগুলোই সবচেয়ে বড় হয়ে থাকে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link