রোহিত আটের জন্য সেঞ্চুরি মিস করে ফিরলেন, স্কোরবোর্ডে তখন ১৪২ রানে ৩ উইকেট। প্রথম দিকে রাহুল ছিলেন শান্ত, প্রথম ১২ বলে মাত্র ৭ রান। সিরিজে এই প্রথম ব্যাট হাতে নামা মানুষটা আগে উইকেট চিনে নিলেন, তারপর আস্তে আস্তে হাত খুলতে শুরু করলেন। ঋতুরাজ ফিরলেন, নামান ধীর এসে কয়েকটা দারুণ শট খেলে ৩০ করে গেলেন, নিতিশ রেড্ডিও টিকতে পারলেন না।
৪০ ওভার শেষে ২৫০ রানে ৬ উইকেট, ইনিংস ৩০০ এর আশেপাশেই থেমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাহুল অন্য প্রান্তে একজন একজন করে সঙ্গী বদলাতে দেখলেন, নিজে দাঁড়িয়ে রইলেন পাহাড়ের মতো।
পঞ্চাশ এল ৪১ বলে, আর সেঞ্চুরি ৮০ বলে। তাঁর ৯টা ওয়ানডে সেঞ্চুরির মধ্যে এটা দ্বিতীয় দ্রুততম। প্রথম বাউন্ডারি পেতে লেগেছিল ৩২ বল, আর শেষ ১০ ওভারে সেই মানুষটাই তুলে নিলেন ১০৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বারবার সুযোগ দিল, ক্যাচ ফেলল একের পর এক, ছয়টা ক্যাচ ফেলে ওয়ানডের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলল। রাহুল সেগুলোর পুরো দাম আদায় করে নিলেন। জেইডেন সিলসের শর্ট বলে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন, হেলমেট খুলে দুই হাত ছড়িয়ে দিলেন, আর গুরনূর ব্রার ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন।

শেষ ওভারে কিমো পলের ওভারে রান করলেন একেবারে মেপে মেপে। পরপর দুই ছক্কা, তারপর চার, তারপর দুই রান করে দুইবার, ওই এক ওভারেই উঠল ২২ রান। ৮৭ বলে ১২৯ রান, ১০টা চার আর ৬টা ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ।আর এরই মাঝে ভারতের স্কোর দাঁড়াল ৩৫১।
গত দুই ম্যাচে দলে থেকেও ব্যাট হাতে নামার সুযোগ পাননি রাহুল। শুরুর ব্যাটাররা এত ভালো করছিলেন যে তাঁর পালা আসার আগেই ইনিংস শেষ হয়ে যাচ্ছিল। সেই অপেক্ষার পর আজ যখন ডাক এল, ভারত তখন ১৪২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে আছে। রাহুল সময় নিলেন, উইকেট বুঝে নিলেন, তারপর এমনভাবে খুলে দিলেন নিজেকে যে ৩০০ রানের কাছে থেমে যেতে বসা ইনিংস গিয়ে থামল ৩৫১ রানে।
সিরিজের নবম সেঞ্চুরিটা এল তাঁর ব্যাট থেকেই, আর সেটাই হয়ে থাকল তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। সুযোগ কম পেলেও তৈরি থাকলে সেটা কাজে লাগানো যায়, আজ রাহুল সেটাই দেখিয়ে দিলেন।

Share via:











