বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না জাদেজার?

২০২৭ বিশ্বকাপের মঞ্চে জাদেজা থাকবেন কি না, সেই উত্তর এখনই লেখা সম্ভব নয়। হয়তো তিনি ফিরবেন পুরোনো ছন্দে, আবারও হয়ে উঠবেন ভারতের নির্ভরতার নাম। কিংবা সময়ের দাবি মেনে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মকে।

একসময় বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং দুর্গে ধস নামানো, ব্যাট হাতে বিপর্যয়ের মুখে প্রতিরোধ গড়া, আর ফিল্ডিংয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা। রবীন্দ্র জাদেজা ছিলেন এমনই এক ক্রিকেটশিল্পী, যার উপস্থিতিতে ভারত পেত তিন বিভাগের সম্মিলিত শক্তি। কিন্তু সময়ের ক্যানভাসে সাফল্যের রং চিরস্থায়ী নয়। সেই জাদেজারই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার আবরণে ঢাকা। যে ক্রিকেটার একসময় ভারতের শিরোপা অভিযানে ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক, তাকেই কি এবার বিশ্বকাপের মহাপরিকল্পনার বাইরে রেখে নতুন সমীকরণ সাজাতে চাইছে ভারত?

জাদেজার ক্যারিয়ার এক দীর্ঘ উপাখ্যান। ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিজয়ী ভারতীয় দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। নামের পাশে আছে এশিয়া কাপ জয়ের খ্যাতিও!

পরিসংখ্যানের আয়নায় তাকালে জাদেজার সামর্থ্যের বিস্তৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২১২টি ওয়ানডেতে তাঁর সংগ্রহ ২,৯০৫ রান এবং ২৩৪ উইকেট। ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৮৭ রান, বল হাতে সেরা সাফল্য ৩৩ রানে ৫ উইকেট। রয়েছে ১৩টি অর্ধশতকও। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ওয়ানডে কাঠামোয় তিনি ছিলেন কার্যকর এক অলরাউন্ডার। তবে পরিসংখ্যানের উজ্জ্বল মলাটের আড়ালে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু প্রশ্নও ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ওয়ানডেতে জাদেজার ব্যাট থেকে এসেছিল যথাক্রমে ১২, ২৭ ও ৪ রান। বল হাতেও কোনো উইকেট পাননি তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভার বল করে ৫৪ রান দিয়েও ছিলেন উইকেটশূন্য। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য দুটি উইকেট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেন। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে ভারত যে ধারাবাহিক ও বহুমুখী অবদান প্রত্যাশা করে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন কতটা ঘটছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

২০২৭ বিশ্বকাপের আসর দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানকার কন্ডিশন, পিচের প্রকৃতি এবং দলের কৌশল বিবেচনায় নির্বাচকদের এমন সমন্বয় খুঁজতে হবে, যা কাগজে নয়, মাঠেও কার্যকর!

এই প্রেক্ষাপটে অক্ষর প্যাটেল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। বাঁহাতি স্পিনের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য তাঁকে জাদেজার ভূমিকার কিছু অংশ পূরণের সুযোগ করে দেয়। অন্যদিকে, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও নামান ধীরের মতো অলরাউন্ডাররাও দলের ভারসাম্য তৈরির সম্ভাব্য বিকল্প।

আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের ঘোষিত ওয়ানডে স্কোয়াডে জাদেজার অনুপস্থিতি তাই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন সুন্দরকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা গেলেও ঘোষিত ওয়ানডে দলে তাঁর নাম নেই।

২০২৭ বিশ্বকাপের মঞ্চে জাদেজা থাকবেন কি না, সেই উত্তর এখনই লেখা সম্ভব নয়। হয়তো তিনি ফিরবেন পুরোনো ছন্দে, আবারও হয়ে উঠবেন ভারতের নির্ভরতার নাম। কিংবা সময়ের দাবি মেনে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মকে।

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

প্রথম প্রেম, শেষ প্রেম, মাঝখানে যত প্রেম, সবই বোধহয় ক্রিকেটকে ঘিরে! দেশের ঘুণেধরা ফুটবলের প্রতিও মায়াটা নেহাত কম নয়। সাংবাদিকতার অ-আ-ক-খ শিখতে এখনও বহু পথ বাকি, তাই সাংবাদিক পরিচয়ে সংকোচের অন্ত নেই। টুকটাক শব্দের চাষ করি, সেই ফসলই ঠাঁই পায় আমার নতুন ঠিকানা, খেলা ৭১-এ। স্বপ্নের অন্বেষণে রত এক নগণ্য কলমশ্রমিক আমি।

জন্ম বরিশাল সদরে, পৈতৃক শিকড় উজিরপুরে। বেড়ে ওঠা, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিকের পাঠ চুকেছে পিরোজপুরের নেছারাবাদে। বর্তমানে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক (সম্মান) অধ্যয়নরত।

Share via
Copy link