এটাই আধুনিক ক্রিকেট! যেখানে প্রতিপক্ষের বিশাল সংগ্রহ দেখে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া নয়, বরং প্রথম বল থেকেই জয়ের জন্যই মাঠে নামাটাই মুখ্য। ইংল্যান্ডের দেওয়া ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ঠিক সেই মানসিকতারই অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
লঙ্কানদের রান তাড়ার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল, গোটা ইনিংসজুড়ে জয়ের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়া। কুশল মেন্ডিসের ডায়মন্ড ডাকের পরও তাদের অগ্রযাত্রা থেমে যায়নি। একজন ব্যর্থ হয়েছেন, অন্যজন দায়িত্ব নিয়েছেন। পরিস্থিতির চাপে নুয়ে পড়ার পরিবর্তে প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগে সচেষ্ট হয়েছেন।
আভিষ্কা ফার্নান্দোর ৯৭ রানের ইনিংস শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার ভিত গড়ে দেয়। এরপর পাভান রাত্নায়াকের ১৩০ রানের অনবদ্য ইনিংস দলকে পৌঁছে দেয় জয়ের সম্ভাবনার আরও কাছে। দাসুন শানাকা ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচের সমীকরণ আমূল বদলে দেন। ব্যাটিং অর্ডারে তাঁর পদোন্নতি যে কতটা কার্যকর সিদ্ধান্ত ছিল, মাঠের পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ।

তবে এই মহাকাব্যিক রান তাড়ার চূড়ান্ত পরিণতি লিখেছেন জানিথ লিয়ানাগে। মাত্র ২৭ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, একজন ফিনিশারের প্রকৃত সার্থকতা কোথায়। শেষ দুই বলে যখন প্রয়োজন ছয় রান, তখন তাঁর ব্যাট থেকে আসা সেই অবিশ্বাস্য ছক্কা যেন গোটা ইনিংসেরই যথার্থ উপসংহার। ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৪৩০ রান, শ্রীলঙ্কার জয় দুই উইকেটে।
ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুকের ২০২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সম্মিলিত প্রতিরোধ ও অবিশ্বাস্য রান তাড়া সেই ব্যক্তিগত কীর্তিকেও ছাপিয়ে গেল ম্যাচের চূড়ান্ত পরিণতিতে।
শ্রীলঙ্কা আজ দেখিয়ে দিল, বড় লক্ষ্য মানেই পরাজয়ের পূর্বাভাস নয়। বরং সঠিক মানসিকতা, দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করার সাহস থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

এটাই আধুনিক ক্রিকেট। আর শ্রীলঙ্কার এই অবিশ্বাস্য রান তাড়া বহুদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।











