শেষ পর্যন্ত ট্রাজিক হিরো হয়ে রইলেন সাইফ!

হতে পারতেন ম্যাচের হিরো! কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলেন ট্রাজিক হিরো। জয়ের জন্য শেষ ১ বলে জানাকপুর বোল্টসের প্রয়োজন ৩ রান। স্ট্রাইকে সাইফ হাসান। আন্দ্রে রাসেলের বলে ব্যাট চালালেন জোরেই। বল উড়েও গেল আকাশে, তবে সীমানার বাইরে নয়, বাসির আহমাদের তালুবন্দি হয়ে। তাতেই বিরাটনগর কিংসের বিপক্ষে শেষ সাইফের বীরত্বগাথা!

হতে পারতেন ম্যাচের হিরো! কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলেন ট্রাজিক হিরো। জয়ের জন্য শেষ ১ বলে জানাকপুর বোল্টসের প্রয়োজন ৩ রান। স্ট্রাইকে সাইফ হাসান। আন্দ্রে রাসেলের বলে ব্যাট চালালেন জোরেই। বল উড়েও গেল আকাশে, তবে সীমানার বাইরে নয়, বাসির আহমাদের তালুবন্দি হয়ে। তাতেই বিরাটনগর কিংসের বিপক্ষে শেষ সাইফের বীরত্বগাথা!

অথচ তার আগে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। ছক্কা হাঁকিয়েই পূর্ণ করেছেন ফিফটি। পুরো ইনিংসে মেরেছেন পাঁচটি ছক্কা ও দুইটি চার। ১৮.২ ওভারে স্ট্রেইটে এমনই এক ছক্কা হাঁকালেন যে, বলই হারিয়ে গেল! নেপালের ত্রিভুবনে যেন ছক্কার বৃষ্টি নামিয়েছিলেন সাইফ।

শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৭১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন। পাঁচ ছক্কা ও এক চারে সাজানো ইনিংসটির স্ট্রাইক রেট ১৪৭.৯১! এমন মহাকাব্যিক ইনিংসের মাধ্যমে দেশের বাইরের ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লিগে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে নিজের ইনিংসকে নিয়ে যান ৬ নাম্বারে!

শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ ধীরগতির। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন সাইফ। ব্যাটিংয়ে গতি বাড়িয়েছেন, দলের প্রয়োজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলেছেন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। তাই ইনিংসটিকে শুধু বিধ্বংসী বললে হয়তো কম বলা হবে, বরং পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ব নিয়ে খেলা এক পরিণত ইনিংসই ছিল এটি।

১৭৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সাইফের দল জানাকপুর মাত্র ১৫ রানের মাথায়ই প্রথম উইকেট খুইয়ে বসে। আর তখনই মাঠে আগমন বাংলাদেশের এই ব্যাটারের। তবে দলীয় রান মাত্র ৩০ রানে পৌঁছাতেই শেষ পর্যন্ত দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দল। সেখান থেকেই দলের দায়িত্ব কাঁধে নেন সাইফ হাসান ও বিশাল সুশলিং।

বিশাল আগ্রাসী হলেও সাইফ তখনও ছিলেন ধীরস্থির। তবে বিশাল ফিরে গেলেই সাইফ আর নিশাম হাত খুলে মারতে থাকেন আপন মহিমায়! আর তাতেই প্রায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকা ম্যাচেও জয়ের আশায় বুক বাঁধছিল জানাকপুর বোল্টস!

ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়া থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া, সবই ছিল হাতের নাগালে। কিন্তু শেষ বলের আক্ষেপে নায়ক হওয়ার বদলে ট্রাজিক হিরো হয়েই থাকতে হলো সাইফ হাসানকে।

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

সাব এডিটর

Share via
Copy link