২৭ রানে ৫ উইকেট! শুরুতেই এমন ব্যাটিং বিপর্যয়, এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ কোথায়? অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই যেন নিজেদের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরল বাংলাদেশের যুবারা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৩ রানের বিশাল হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল তারা। যে লড়াইয়ের প্রত্যাশা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না মাঠে। বরং ব্যাটে-বলে আফগানদের আধিপত্যের সামনে বারবার অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হলো বাংলাদেশকে।
অথচ ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের বোলাররা আশার আলো দেখিয়েছিলেন। আফগান ব্যাটারদের চাপে রাখার চেষ্টাও ছিল। কিন্তু দলের কঠিন সময়ে একাই যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়ান শাহ ফয়সাল রহিমী। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেন ৯৭ বলে ৮৩ রানের দারুণ এক ইনিংস।
একটি ছক্কা ও আটটি চারে সাজানো তাঁর এই ইনিংসেই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বোলাররা ৪৯ ওভারে প্রতিপক্ষকে অলআউট করলেও ততক্ষণে ২৩১ রানের পুঁজি গড়ে ফেলেছে আফগানরা।

লক্ষ্যটা অসম্ভব ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে, সেই লক্ষ্য তাড়া করার মানসিক প্রস্তুতিটুকুও যেন ছিল না! মাত্র ৭ রানে ওপেনার আবদুল্লাহ আল মুহির বিদায়ের পর শুরু হয় উইকেটের মিছিল। একের পর এক ব্যাটার আসেন, আর ফিরে যান। মাত্র ২৭ রানেই নেই ৫ উইকেট!
এমন হতাশার দিনে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন শেখ জারিফ সিয়াম। অন্য প্রান্তে যখন আসা-যাওয়ার মিছিল, তখন একাই লড়াই চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে তাঁর লড়াইটাও শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়নি। দলীয় ৯৮ রানে থামে জারিফের ইনিংস। ৫৮ বলে ৪১ রান করে ফেরেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ১১৩ রানের বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। আফগানিস্তানের হয়ে সামি মুবারেজ, আমির হামজা ও নূর আলী নিয়াজাই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্যও ভালো বার্তা দেয় না। দেখা যাক দুই বারের যুব এশিয়া কাপ জয়ীরা পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না!











