মাত্র ৩৭ বলেই এবির বিধ্বংসী শতক!

এতগুলো বছর পরও রিফ্লেক্স একই রকম তীক্ষ্ণ, সেই একই হ্যান্ড আই কো-অর্ডিনেশন, আর বল দেখলেই চাবুকের মতো ব্যাট চালানোর সেই চেনা ঔদ্ধত্য!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর এতগুলো বছর পরও রিফ্লেক্স একই রকম তীক্ষ্ণ, সেই একই হ্যান্ড আই কো-অর্ডিনেশন, আর বল দেখলেই চাবুকের মতো ব্যাট চালানোর সেই চেনা ঔদ্ধত্য! অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন্সের ২১০ রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে অপ্রতিরোধ্য এক সেঞ্চুরি হাঁকালেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

​অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন্সের দেওয়া ২১০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল বিশেষ কিছুর। সেই কঠিন মুহূর্তে বাইশ গজে আবির্ভূত হলেন দ্য জিনিয়াস এবি ডি ভিলিয়ার্স। মাত্র ৩৭ বল খেলে সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছে পুরো গ্যালারিকে যেন এক মায়াবী মোহে আচ্ছন্ন করে ফেলেন তিনি।

চোখ ধাঁধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীতে তিনি ৪০ বলে করেন ১১৪ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল আকাশচুম্বী, ২৮৫.০০! মাঠের চারপাশের ৩৬০ ডিগ্রি কোণে তিনি যেভাবে একের পর এক বাউন্ডারি ও ওভার-বাউন্ডারি হাঁকালেন, দেখে মনে হচ্ছিল ঘড়ির কাঁটা হয়তো এক দশক পিছিয়ে গেছে।

তাঁর চারটি চার ও ১১টি ছক্কায় বোনা এই ইনিংসটির সামনে অজি বোলারদের কোনো ট্যাকটিক্সই টিকতে পারেনি। ফাওয়াদ আহমেদ থেকে শুরু করে বেন হিলফেনহাউস। সবাইকেই ডি ভিলিয়ার্সের এই সাইক্লোনের তাণ্ডব সহ্য করতে হয়েছে।

​ডি ভিলিয়ার্সের এই তাণ্ডব অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই টুর্নামেন্টে তাঁর রেকর্ডের ভারিক্কি ঠিক তাঁর নামের মতোই। আট ইনিংসে চারটি শতক এবং ১৫৩.২৫ গড়ে ৬১৩ রান! এবিডি বলেই বুঝি সম্ভব!

একটা গোটা প্রজন্ম যাঁর ব্যাটের মোহে বুঁদ হয়ে শৈশব কিংবা কৈশোর পার করেছে, ক্রিকেট ভালোবাসতে শিখেছে – তাঁর ব্যাটিং দেখা মানেই যেন এক চিরচেনা অনুভূতির পুনর্জন্ম।রূপোলি পর্দার নায়ক হয়তো সময়ের টানে একসময় দৃশ্যপট থেকে সরে যান। কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্স নামের এই মহাজাগতিক ঘূর্ণি প্রমাণ করে যাচ্ছেন যে, কিছু সুর কোনোদিন পুরনো হয় না, কিছু মায়াজালে মুগ্ধতা জমে থাকে আজীবন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link