অফফর্ম কাটিয়ে সাঞ্জুর ব্যাটে রানের তাণ্ডব!

সাঞ্জুর মতো ক্রিকেটাররা যে কোনো সময় একটা ঝড়ে সব সমীকরণ বদলে দিতে পারেন, সেটাই আবার প্রমাণ করলেন এই ভারতীয় ওপেনার।

কয়েক ম্যাচ ধরেই ব্যাটে রান নেই। শেষ ১৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ঝুলিতে ছিল মাত্র দুটি হাফ সেঞ্চুরি, যা-ও আবার এসেছিল আফগানিস্তান সিরিজে। স্বাভাবিকভাবেই সাঞ্জু স্যামসনের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারের উপর চাপটা বাড়ছিল সময়ের সাথে সাথে। তবে সাঞ্জুর মতো ক্রিকেটাররা যে কোনো সময় একটা ঝড়ে সব সমীকরণ বদলে দিতে পারেন, সেটাই আবার প্রমাণ করলেন এই ভারতীয় ওপেনার।

রাঞ্চিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ আবারও নিজের চেনা ছন্দে আত্মপ্রকাশ করলেন স্যামসন। ৪১ বলে ৮২ রানের অপ্রতিরোধ্য এক ইনিংস খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

ইনিংসের শুরুতে প্রথম কয়েকটা বলে অবশ্য তাকে কিছুটা নড়বড়ে মনে হয়েছিল। কেবল ছয় রানে থাকতেই কামিল পুরানের হাতে একটি ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন স্যামসন। তবে ভাগ্যের ছোঁয়া পান তিনি। পুরান সেই ক্যাচটি মিস করলে পুরো ম্যাচ জুড়েই তাকে আফসোসে রাখেন সাঞ্জু।

জীবন পাওয়ার পরপরই সাঞ্জু নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তাঁর প্রয়োজন ছিল কেবল একটা ইতিবাচক শট আর এক চিলতে আত্মবিশ্বাসের। আকিল হোসেনের বলে নো-বল পাওয়ার পর ফ্রি-হিটে যে দর্শনীয় ছক্কাটি হাঁকালেন, তাতেই যেন ইনিংসের পুরো চিত্র বদলে গেল। সেই ছক্কাতেই কুড়িয়ে পান সেই হারিয়ে যাওয়া কনফিডেন্স, যা সঞ্জুর মতো ব্যাটারদের জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

শুরুতে পাওয়া সেই কনফিডেন্সকে সম্বল করে উইন্ডিজ বোলারদের উপর তীব্র আক্রমণ চালান তিনি। পাওয়ার প্লের ফায়দা পুরোদমে তুলে নিয়ে মাত্র ২১ বলে পূরণ করেন নিজের হাফ সেঞ্চুরি।

​সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে গেলেও অবশেষে ৪১ বলে ৮২ রানেই থামতে হয় তাকে। সামার স্প্রিঙ্গারের বলে থার্ড ম্যান অঞ্চলে বল উঠিয়ে দেন তিনি। এবার অবশ্য আর ভুল করেননি কামিল পুরান, তবে তার আগেই প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে চুরমার করে দিয়েছেন সাঞ্জু। ২০০ স্ট্রাইকরেটে নয়টি চার ও চারটি দর্শনীয় ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসেই ভারতের বিশাল সংগ্রহের শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে যান তিনি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link