আফগানিস্থানের বিপক্ষে সেই পুরানো গল্পের বৃত্তে বাংলাদেশ!

ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ওপরের সারি ভিত গড়ে দিয়েছিল, সেটার ওপর বড় স্কোরের ইমারত তোলা গেল না। ডিফেন্সিভ একাদশ নিয়ে নামা দলের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

সেই পুরোনো রক্ষণাত্মক একাদশ নিয়ে আফগানিস্থানের বিপক্ষে নেমেছিল বাংলাদেশ, প্রথম সেশনে তানজিদ আর সাদমানের দারুণ শুরু দেখে মনে হচ্ছিল, আবুধাবির দিনটা বাংলাদেশেরই হতে যাচ্ছে। টস ভাগ্যের জোরেই জেতা, কিন্তু সেটা কাজে লাগানোর কাজটা ওপেনাররা ঠিকঠাকই করলেন। আবুধাবির উইকেটে প্রথম দুই দিন ব্যাটারদের রাজত্ব, আর প্রথমে ব্যাট করা দলের লক্ষ্যও থাকে এই দুই দিন টিকে থেকে যত বেশি সম্ভব রান তোলা। তানজিদ ৭১ বলে ৮৩ করে লাঞ্চের একটু আগে ফিরলেন, সেঞ্চুরিটা হলো না। তবে ১২২ রানের জুটিতে দলের ভিত ততক্ষণে পাকা। সাদমানও ব্যাক্তিগত ৫ রানে কভারে একটা সহজ ক্যাচ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগের পূর্ণ ব্যবহারই করলেন।

লাঞ্চের পর সাদমান আর মুমিনুল ভালোই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু সালিম সাফি একের পর এক শর্ট বলে চাপ বাড়াতে থাকলেন, আর সেই ফাঁদেই স্কয়ার লেগে দারুণ এক ক্যাচে ফিরলেন সাদমান, ৬৭ রানে। দুই ওপেনার মিলে যে কাজ করে দিয়ে গেলেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে বড় স্কোরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল মিডল অর্ডারের। অথচ সেখানেই গল্পটা আবার আগের মতো হয়ে গেল।

মুমিনুল ৩৯ রানে কভারে ক্যাচ দিলেন, তারপর ইয়ামিন আহমদজাইয়ের ইয়র্কারে মুশফিক বোল্ড হলেন শূন্য রানে। অধিনায়ক শান্ত ২৯ রানে কায়েস আহমদের বলে স্লিপে ধরা পড়লেন। ২২০ রানে ২ উইকেট থেকে স্কোর হয়ে গেল ২২৪ রানে ৫ উইকেট, ৪ রানের মধ্যে তিনজন ফিরে গেলেন। ইয়ামিন পুরোনো বলে রিভার্স সুইং বের করে বিকেলটা নিজের করে নিলেন, কিন্তু ব্যাটারদের শট বাছাইও এই ধসে কম দায়ী ছিল না।

লিটন আর মিরাজ এরপর ধীরেসুস্থে দলকে টেনে তুললেন। স্কোর ২৮৭ পর্যন্ত গেল, মনে হচ্ছিল এই জুটিই দিন শেষ করে আসবে। কিন্তু ইসমত আলমের বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়ে মিরাজ ফিরলেন ২৪ রানে। লিটন ফিফটি করে নাঈমকে নিয়ে লড়ছিলেন, অথচ দিন শেষের একটু আগে সাফির বাউন্সারে অকারণে হুক করতে গিয়ে ৫৩ রানে ক্যাচ দিয়ে বসলেন। পরের ওভারেই হাসান মাহমুদও বোল্ড। দিন শেষে বাংলাদেশ ৮৪ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৭, নাঈম ১১ আর তাইজুল ৪ রানে অপরাজিত। সাফি ৭০ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন।

লাঞ্চে ১ উইকেটে ১৩৪ নিয়ে যাওয়া দলের দিন শেষ হলো ৮ উইকেট হারিয়ে। ওপেনাররা ভালো করলে মিডল অর্ডার রান পায় না, এই পুরোনো গল্পটাই আবুধাবিতেও ফিরে এল। ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ওপরের সারি ভিত গড়ে দিয়েছিল, সেটার ওপর বড় স্কোরের ইমারত তোলা গেল না। ডিফেন্সিভ একাদশ নিয়ে নামা দলের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

Share via
Copy link