দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের অবসানে লিটন ফিরে পেয়েছেন নিজের অস্তিত্ব

টানা তিন ইনিংসে ডাক! ব্যাট হাতে ক্রিজে গিয়েছেন, কিন্তু রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেছেন সাজঘরে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই ব্যর্থতার ক্ষত তখনো টাটকা। এর মধ্যেই অবশেষে রানের দেখা পেলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আর রানের খাতা খুলেই ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন, মুখজুড়ে চওড়া হাসি। যেন বহুদিনের চেনা সেই আত্মবিশ্বাসকে আবারও খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

কখনো কখনো একটি রানও হয়ে ওঠে শতরানের সমান স্বস্তি। কখনো ব্যাট থেকে আসা একটি বাউন্ডারিই ফিরিয়ে দেয় আত্মবিশ্বাসের হারিয়ে যাওয়া সুর। আর কখনো সেই রানটুকু করেই ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপনে মাতেন একজন ব্যাটার, যেন দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের অবসানে ফিরে পেয়েছেন নিজের অস্তিত্ব। লিটন কুমার দাসের জন্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই মুহূর্তটি ছিল ঠিক তেমনই।

টানা তিন ইনিংসে ডাক! ব্যাট হাতে ক্রিজে গিয়েছেন, কিন্তু রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেছেন সাজঘরে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই ব্যর্থতার ক্ষত তখনো টাটকা। এর মধ্যেই অবশেষে রানের দেখা পেলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আর রানের খাতা খুলেই ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন, মুখজুড়ে চওড়া হাসি। যেন বহুদিনের চেনা সেই আত্মবিশ্বাসকে আবারও খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

অথচ চলতি বছরের শুরুতে টেস্ট ক্রিকেটে লিটনের গল্পটা মোটেও খারাপ ছিল না। পাকিস্তানের বিপক্ষে মে মাসে মিরপুর টেস্টে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও পরের ম্যাচেই সিলেটে ফিরেছিলেন দুর্দান্তভাবে। ব্যাট হাতে যেন খুলে বসেছিলেন রানের দরিয়া। প্রথম ইনিংসে ১২৬, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯। দুই ইনিংসে মিলিয়ে ১৯৫ রান করে জিতেছিলেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও। সেই ইনিংসগুলো মনে করিয়ে দিয়েছিল, লিটনের ব্যাটে ছন্দ থাকলে তিনি কতটা নান্দনিক, কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন।

শুধু লাল বলেই নয়, সাদা বলের ক্রিকেটেও তখন লিটনের ব্যাটে রানের আকাল। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রানে ফেরেন তিনি। তার আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে সংগ্রহ মাত্র ২ রান।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে সেই ফেরার গল্পটিই লিখতে শুরু করলেন তিনি। শুরুতে মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গী করে গড়লেন ৬২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। মিরাজ বিদায় নিলে থেমে যাননি লিটন। এবার সঙ্গী নাইম হাসান। ধীরস্থির ব্যাটিং, শট নির্বাচনে সংযম আর কবজির চমৎকার ব্যবহার, সব মিলিয়ে ক্রমেই নিজের ছন্দ ফিরে পেতে থাকেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।

ইনিংসের ৭৮.৫ ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বল। অফ স্টাম্পের বাইরে নয়, মিডল স্টাম্প লক্ষ্য করে করা ফুলার ডেলিভারি। লিটন সামান্য এগিয়ে এসে কবজির মোচড়ে বল পাঠিয়ে দেন মিডউইকেটের ফাঁক গলে সীমানার বাইরে। চার! পূর্ণ হয় অর্ধশতক। তিনটি ডাকের অন্ধকার পেরিয়ে ফিরে আসে লিটনের ব্যাটে রানের আলো। তবে লিটন শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার ছাপ পুরোপুরি দিতে পারেননি। মনে হচ্ছিলো আরও ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে লিটন ও বাংলাদেশের জন্য।

 

ফিফটির আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হলো না। ৭৯.১ ওভারে মোহাম্মদ সেলিমের বলে আকাশে তুলে দিলেন ক্যাচ। বলটি হাওয়ায় ভেসে উঠতেই আফগান ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ল লিটনের ইনিংস। অর্ধশতক পূর্ণ করার পরপরই বিদায়। স্কোরবোর্ডে নামের পাশে ৫৩, কিন্তু আরও বড় কিছু করার সম্ভাবনাটা অপূর্ণই থেকে গেল।

 

Share via
Copy link