সামনেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো, আর তার আগের এই ম্যাচটা ছিল খেলোয়াড় যাচাইয়ের সবচেয়ে ভালো সুযোগ। কাকে দিয়ে কী হবে, কে প্রস্তুত, কে নয়, সেই উত্তরগুলো খুঁজে নেওয়ার জায়গা ছিল এটাই। অথচ বাংলাদেশ আবারও সেই চেনা, নিরাপদ একাদশ নিয়েই নামল। ঝুঁকি নেই, নতুন কিছু জানার সুযোগও নেই।
সাদমান ৬৭ রানে ফিরেছেন, ইনিংসটা ভালো। কিন্তু এমন ফিফটি তিনি কত ইনিংস পর পেলেন, আবার কবে পাবেন, সেই হিসাব মেলাতে গেলেই আসে অসংখ্য প্রশ্ন। মাঝেমধ্যে একটা ভালো ইনিংসেই জায়গা পাকা হয়ে যাচ্ছে, অথচ বড় ম্যাচের আগে দলের দরকার ধারাবাহিকতা আর সৌম্য বারবার স্কোয়াডে থেকেও বাইরে বসে আছেন।
বর্তমানের টেস্টে আগের নিয়মে খেললে চলে না, ম্যাচের মোমেন্টাম বুঝে যেকোনো সময় রানের গতি বাড়াতে পারে, এমন ব্যাটার লাগে। সৌম্যকে স্কোয়াডে রাখাই হয় সেই ভূমিকার জন্য,আর বিদেশের মাটিতে তাঁর রেকর্ডও নজর কাড়া, কিন্তু প্রস্তুতির ম্যাচেও যদি তাঁকে পরখ করা না হয়, তাহলে বড় ম্যাচে তাঁর ওপর ভরসা করা যাবে কীভাবে?

মুশফিক শূন্য রানে ফিরেছেন, অন্যদিকে ৩৫০ রান করা হৃদয় একাদশেই জায়গা পাননি। মুশফিক দেশের সেরা ব্যাটারদের একজন, কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ার সায়াহ্নেই বলা যায়, তাই এমন কম গুরুত্বপুর্ণ ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে হৃদয়,জাকির দের মতো তরুণদের সুযোগ দিয়ে তারা কেমন করেন সেইটা দেখার এই ম্যাচ ছিল আদর্শ মঞ্চ। মিডল অর্ডারে মুশফিকের জায়গায় ধীরে ধীরে কাউকে তৈরি না করলে মুশফিক অবসরে যাওয়ার পর আবার সেই শূন্য থেকে শুরু করতে হবে।
আর যদি কাউকে বসিয়েই রাখতে হয়, তাহলে অমিত হাসান বা শাহাদাত হোসেন দিপুর মতো তরুণরা দলের সঙ্গে থাকুক। ড্রেসিং রুমে বসে শিখুক, পরিবেশটা চিনুক, সুযোগ এলে তৈরি থাকুক। ক্যারিয়ারের শেষ দিকের একজনকে মাঠে না নামিয়ে শুধু স্কোয়াডে রেখে পানি টানানোর চেয়ে সেটা অনেক বেশি কাজের। চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এমন সুযোগ বারবার আসে না, আর সেটা হাতছাড়া হলে দাম দিতে হবে বড় ম্যাচেই।











