এটলেটিকোতে আলভারেজের বিভীষিকাময় অধ্যায়

জুলিয়ান আলভারেজ যখন মাঠের ধারে ওয়ার্ম-আপ শুরু করলেন, মেট্রোপলিটানোর গ্যালারি তখন একটাই ভাষা বলছিল—ঘৃণার ভাষা। যে ছেলেটাকে দুই বছর আগে ম্যানচেস্টার সিটির বেঞ্চ থেকে টেনে এনে এটলেটিকো মাদ্রিদ নিজেদের ভবিষ্যৎ বলে ঘোষণা করেছিল, রোববার রাতে সেই একই ছেলের নাম স্টেডিয়ামের পর্দায় ভেসে উঠতেই উঠল তীব্র শিসের ঝড়।

জুলিয়ান আলভারেজ যখন মাঠের ধারে ওয়ার্ম-আপ শুরু করলেন, মেট্রোপলিটানোর গ্যালারি তখন একটাই ভাষা বলছিল—ঘৃণার ভাষা। যে ছেলেটাকে দুই বছর আগে ম্যানচেস্টার সিটির বেঞ্চ থেকে টেনে এনে এটলেটিকো মাদ্রিদ নিজেদের ভবিষ্যৎ বলে ঘোষণা করেছিল, রোববার রাতে সেই একই ছেলের নাম স্টেডিয়ামের পর্দায় ভেসে উঠতেই উঠল তীব্র শিসের ঝড়। ৭০ হাজার ৬৯২ দর্শকের একাংশ তখন গলা মিলিয়ে বলছে—”চলে যেতে বলো, চিরদিনের জন্য চলে যাক।” ফুটবল মাঠে এমন প্রকাশ্য বিচ্ছেদের দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না, অথচ ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ ব্যবধানের এক নাটকীয় ড্রয়ের রাতে সেটাই বাস্তব হয়ে উঠল।

শুরুর একাদশে জায়গা পাননি আলভারেজ। ৬৬ মিনিটে মার্ক পুবিয়ালের বদলি হিসেবে যখন কোচ দিয়েগো সিমিওনে তাঁকে মাঠে নামালেন, গ্যালারি যেন আরও তেতে উঠল। অথচ ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে অন্যভাবে—রবিন লে নরমঁর লাল কার্ডে দশজনে নেমে আসা এটলেটিকো এক পর্যায়ে পিছিয়েও পড়েছিল।

মাঠে ২৪ মিনিট কাটিয়ে আলভারেজ ছুঁয়েছেন বল মোটে ১২ বার, শট নিয়েছেন একটি, যা ব্লক হয়ে গেছে, আর তাঁর এক্সপেক্টেড গোল দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচে। পাসের হিসাবে ১০টির মধ্যে ৯টি ঠিকঠাক গেলেও বল হারিয়েছেন দুবার, ড্রিবলে সফল হননি একবারও। যে ফুটবলার এক মৌসুম আগেও ছিলেন দলের ভরসার নাম, সেই তিনিই যেন রোববার রাতে নিজের ছায়ায় পরিণত হলেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই দৃশ্যটা হয়ে উঠল আরও করুণ। জর্জ মিকাউতাদজে আর হেরার্ড মোরেনোর পেনাল্টিতে ভিয়ারিয়াল যখন পয়েন্ট ভাগাভাগি নিশ্চিত করল, এটলেটিকোর বাকি ফুটবলাররা ছুটে গেলেন গ্যালারির দিকে, দর্শকদের অভিবাদন জানাতে। আলভারেজ একা হাঁটলেন সুড়ঙ্গের দিকে, মুখে কোনো ভাষা নেই। এক দর্শক তাঁর দিকে ছুড়ে দিলেন জার্সি, তিনি তা উপেক্ষা করে সোজা চলে গেলেন ড্রেসিংরুমে।

সমস্যার শিকড় লুকিয়ে আছে গ্রীষ্মের ট্রান্সফার বাজারে। বিশ্বকাপের সময় নিজের স্বপ্নপূরণের কথা প্রকাশ্যে বলে ফেলা আলভারেজ চান বার্সেলোনা কিংবা আর্সেনালে পাড়ি জমাতে, কিন্তু ক্লাব অনড় তাঁর ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজে। স্প্যানিশ সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, সিমিওনে নিজেও চাননি আলভারেজকে দলে রাখতে, তবু ক্লাব কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁকে মাঠে নামিয়েছে—নিজেদের সমর্থকদের ক্ষোভকেই যেন ব্যবহার করা হয়েছে চাপের অস্ত্র হিসেবে।

ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হতে বাকি আর মাত্র কদিন। আলভারেজ কি সত্যিই মেট্রোপলিটানো ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন, নাকি রয়ে যাবেন এমন এক ক্লাবে, যেখানে নিজের সমর্থকরাই তাঁকে চান না?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link