বিসিসিআইকে হারিয়ে এসিসিতে পিসিবির ক্লিনসুইপ

ব্যাংককে রোববার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের( এসিসি)  বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে যে ছবিটা ভেসে উঠল, তাতে এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনের সমীকরণটাই যেন পাল্টে গেল একদিনে। পরিচালক পদের তিনটি আসনের লড়াইয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত প্যানেল জিতে নিল তিনটিতেই—কাতার, সিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা একে একে আসন পাকা করলেন, আর ভারতের ছায়া তখন করিডোরে ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

ব্যাংককে রোববার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের( এসিসি)  বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে যে ছবিটা ভেসে উঠল, তাতে এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনের সমীকরণটাই যেন পাল্টে গেল একদিনে। পরিচালক পদের তিনটি আসনের লড়াইয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত প্যানেল জিতে নিল তিনটিতেই—কাতার, সিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা একে একে আসন পাকা করলেন, আর ভারতের ছায়া তখন করিডোরে ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

এসিসি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবার কোনো প্যানেল একসঙ্গে তিনটি আসনেই ক্লিন সুইপ করল, আর সেই কৃতিত্ব গেল পিসিবি চেয়ারম্যান তথা এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির ঝুলিতে। উল্টো দিকে বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লাকে নেতৃত্ব দেওয়া ভারতীয় প্যানেল ফিরল খালি হাতে—প্রশাসনিক এই ধাক্কা নয়াদিল্লির জন্য বিব্রতকর, বিশেষ করে যখন এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তগুলো এখন থেকে নাকভির প্রভাবাধীন বোর্ডের হাত দিয়েই যাবে।

আর এই পুরো সমীকরণে বাংলাদেশের অবস্থানটা এবার বেশ মজবুত, বেশ আশাব্যঞ্জক। সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, যিনি এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইসিসি-এসিসির মতো আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের মুখ হয়ে উঠেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই বৈঠকের সবচেয়ে স্বস্তির খবরটা এলো বাংলাদেশের ঘরে—আগামী বছরের পুরুষ এশিয়া কাপের আয়োজক হিসেবে চূড়ান্ত হলো বাংলাদেশের নাম, সিলেট, মিরপুর আর চট্টগ্রামকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাকিস্তান বোর্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও এই মুহূর্তে যথেষ্ট উষ্ণ—দুই বোর্ডের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আর পারস্পরিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা লক্ষণীয়, যা এসিসির এই নতুন সমীকরণে বাংলাদেশকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে ছবিটা দাঁড়াচ্ছে এমন—পাকিস্তান এসিসির প্রশাসনিক ক্ষমতায় এখন সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে, বাংলাদেশ নিজের কূটনৈতিক ও সাংগঠনিক জায়গা ধরে রেখেছে এশিয়া কাপের আয়োজক স্বত্ব আদায় করে, আর ভারত পড়ে গেছে অনেকটাই ব্যাকফুটে। বোর্ড আসনে হার হলেও বিসিসিআইয়ের আসল শক্তি অবশ্য এখনো টাকার অঙ্কে, মাঠের ক্রিকেটে তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া এশিয়া কাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত থেকে যায়। কিন্তু প্রশাসনিক প্রভাবের এই বদলে যাওয়া মানচিত্রে ভারত কি সহজে নিজের জায়গা ফিরে পাবে, নাকি নাকভি-তামিমের এই নতুন সমীকরণেই লেখা হবে এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতির আগামী অধ্যায়?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link