ক্যাম্পবেল যখন ফিরলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১৪৭। গুয়াহাটির গ্যালারিতে তখনও তাঁর ঝোড়ো ইনিংসের রেশ। এমন সময় ক্রিজে এলেন আমির জাঙ্গো, আর প্রথম কিছুক্ষণ দেখে কে বলবে এই মানুষটাই আজ ভারতের বোলারদের এলোমেলো করে দেবেন। প্রথম দিকে, কোনো তাড়াহুড়ো নেই। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক শাই হোপ, তাঁকেই বেশি স্ট্রাইক দিচ্ছিলেন জাঙ্গো। বল দেখছিলেন, পিচ বুঝছিলেন, কুলদীপ আর জাদেজার স্পিন খেলছিলেন পরম ধৈর্যে। ঝড়ের আগে আকাশটা যেমন চুপচাপ কালো হয়ে আসে, জাঙ্গোর ইনিংসও এগোচ্ছিল ঠিক তেমন করেই।
তারপর একটু একটু করে সুর বদলাতে শুরু করল। পয়েন্ট আর শর্ট থার্ডম্যানের ফাঁক দিয়ে বারবার সীমানা খুঁজে নিচ্ছিলেন তিনি, কুলদীপ,নামান ধির, জাদেজা, কেউ বাদ যাননি তাঁর কাট থেকে। উইকেটের পেছন থেকে কেএল রাহুল বোলারদের বলছিলেন সামনে মারতে দিতে, কিন্তু জাঙ্গোর কাছে তখন সব রাস্তাই খোলা।
পরপর দুই ম্যাচে পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস খেললেন তিনি, প্রথম ম্যাচে ৪৩ বলে অপরাজিত ৫৮ করেছিলেন, এবার ফিফটি ছুঁলেন ৩৩তম ওভারের আগেই।

এরপর গল্পটা শুধু জাঙ্গোর। গুরনুর ব্রার আর আকিব নবির লো ফুলটস আর স্লট বলগুলোকে বাউন্ডারি বানালেন একের পর এক। ৫৪ বলে ৫৯ থেকে ৭০ বলে ১০০, মাঝের ১৬ বলেই এল ৪১ রান। সেঞ্চুরির সিঙ্গেলটা নিতে নিতেই শূন্যে ঘুসি ছুড়লেন, ব্যাট ঘোরালেন, ডাগআউটের সবাই উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিল।
মাত্র দশম ওয়ানডেতে এসে এটা তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। একসময় জাতীয় দলে জায়গা পেতে যাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নয় বছর, তিনিই আজ ক্যারিবীয়দের নতুন ভরসার নাম। ক্যাম্পবেল, হোপ আর জাঙ্গো মিলে এক ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি, ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দল। ১১৪ রানে জাদেজার বলে কাট করতে গিয়ে ধরা পড়লেন বাইশ গজের এই ধৈর্যশীল কারিগর, ৭৭ বলের ইনিংসে ১৩টি চার আর ৩টি ছক্কা নিয়ে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে ঝড়ও যে একদিন নিজের সময়ে ঠিক ঠিক আসে, জাঙ্গো সেটাই দেখিয়ে গেলেন।












