একটা সময় ছিল, ক্রিকেটারের পরিচয় জানতে আলাদা করে ফরম্যাটের নাম বলতে হতো না। সাদা পোশাকে তিনি যেমন দলের ভরসা, রঙিন জার্সিতেও তেমনই ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। তিন মঞ্চেই একই মানুষ পারফর্ম করবেন, নিজেকে ভিন্নভাবে সামনে আনবেন। এটাই ছিল চোখের তৃপ্তি। কিন্তু সেই দৃশ্যটাই কি এবার ধীরে ধীরে অতীত হয়ে যাচ্ছে? খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তিন ফরম্যাট খেলা ক্রিকেটারকে। গৌতম গম্ভীরের কথায় অন্তত তেমনই ইঙ্গিত।
জিওস্টারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেছেন, ‘আগামী দিনে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটার খুব কমে যাবে।’ কোচ কিংবা নির্বাচকেরা অবশ্যই চাইবেন একজন ক্রিকেটার টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সবখানেই খেলুক। কিন্তু ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি, বাড়তে থাকা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আর ক্রিকেটারদের কাজের চাপের কারণে বাস্তবতা বদলে যাচ্ছে। দলগুলোও তাই ধীরে ধীরে নিজেদের ক্রিকেটারদের ভাগ করে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটার হারিয়ে যাচ্ছেন? উত্তরটা খুঁজতে ফিরে যেতে হয় কয়েক বছর পেছনে। তাকাতে হবে ২০১৮ সালের বিরাট কোহলির দিকে।
সেবার ১৩টি টেস্ট, ১৪টি ওয়ানডে আর ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন কোহলি। ভারতের টেস্ট দলে ছিলেন প্রায় অবিচ্ছেদ্য। ওয়ানডের ৭০ শতাংশ ম্যাচে ছিলেন। টি-টোয়েন্টিতেও খেলেছিলেন অর্ধেকের বেশি ম্যাচ। তিন জায়গাতেই ছিলেন দলের মূল গল্পের অংশ। তাঁর ‘থ্রি-ফরম্যাট ডিপেনডেন্সি ইনডেক্স’ বা টিডিআই দাঁড়িয়েছিল ৫২.৬।

বলে রাখা ভালো, এই সূচকটা আবার খুব নির্মম। একজন ক্রিকেটার তিন ফরম্যাটে কত ম্যাচ খেলেছেন, সেটার গড় না করে যে ফরম্যাটে তিনি সবচেয়ে কম খেলেছেন, সেটাকেই ধরা হয় সব-ফরম্যাট উপস্থিতির মাপকাঠি হিসেবে।
২০২২ সালেও ঋষাভ পান্ত সেই পুরনো ছবিটাকে কিছুটা ধরে রেখেছিলেন। সাতটি টেস্ট, ১২টি ওয়ানডে ও ২৫টি টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তাঁর টিডিআই ছিল ঠিক ৫০, বিরাট কোহলির ৪৫.৮, শ্রেয়াস আইয়ারের ৪২.৫। তিন ফরম্যাটে খেললেও অক্ষর প্যাটেলের টিডিআই নেমে গিয়েছিল ৩৩.৩-এ।
তবে ২০২৬ এসে সেই বদলে গেছে সব হিসাব। শুভমান গিল খেলেছেন টেস্ট ও ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে নেই। জাসপ্রিত বুমরাহ আছেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে, টেস্টে নেই। এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারই ফরম্যাট ভাগ করে নিয়েছেন।
আগে একজন ক্রিকেটারই হতে চাইতেন তিন ফরম্যাটের নায়ক। এখন দলগুলোই হয়তো আর কাউকে সেই মুকুটটা পরিয়ে রাখতে চাইছে না। নেপথ্যে অবশ্য অনেক কিছুই আছে। ক্রিকেটের ক্যালেন্ডার বদলে গেছে, টি-টোয়েন্টির বিস্তার বেড়েছে, আর খেলোয়াড়দের শরীর ও মানসিক প্রস্তুতির হিসাবও হয়ে উঠেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিন ফরম্যাটে আধিপত্য বিস্তারকারীর সংখ্যাটা নিচের দিকেই যাচ্ছে।











