ইতিহাস বনাম ফর্মের লড়াই

একদিকে দেড় দশকের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইতিহাস, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ক্ষ্যাপাটে’ রূপে বদলে যাওয়া এক নতুন বাস্তবতা।

হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুরের ২২ গজে শুরু হতে যাচ্ছে এক অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে দেড় দশকের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইতিহাস, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ক্ষ্যাপাটে’ রূপে বদলে যাওয়া এক নতুন বাস্তবতা। এ যেন পাকিস্তানের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের লড়াই বনাম নিজেদের ডেরায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক মহাকাব্য।

টেস্ট ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের খাতা খুললে একসময় পাকিস্তানের একচ্ছত্র জয়োগান শোনা যেত। দু’দেশের মধ্যকার ১৫টি দ্বৈরথে ১২ বারই শেষ হাসি হেসেছে পাকিস্তান। বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র দুইটি, আর একটি ম্যাচ ড্রয়ের অমীমাংসিত সমাপ্তিতে শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের এই ১২টি জয়ের পাঁচটি এসেছে তাদের নিজেদের ডেরায়, আর সাতটি বিদেশের মাটিতে।

তবে এই শুষ্ক সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে বর্তমানের বাংলাদেশ দলকে বিচার করাটা হবে মস্ত বড় ভুল। কারণ, টাইগারদের সেই দুইটি জয়ই এসেছে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক পাকিস্তান সফরে। রাওয়ালপিন্ডিতে বাবর আজমদের তাদেরই মাটিতে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার সেই ক্ষত এখনো পাকিস্তান শিবিরে টাটকা। তাই ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও, বর্তমানের ‘মোমেন্টাম’ স্পষ্টভাবেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের অনুকূলে।

মিরপুরের উইকেট বরাবরই স্পিনারদের জন্য এক মায়াবী স্বর্গ। বাংলাদেশ দল এখন আর শুধু লড়াই করার জন্য মাঠে নামে না, বরং প্রতিপক্ষকে ঘূর্ণি জালে পিষ্ট করার নীল নকশা নিয়ে নামে। তবে বর্তমান সময়ে টাইগারদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা শুধু স্পিন নয়, বরং তাদের ধারালো পেস বিভাগ।

আক্রমণের অগ্রভাগে থাকবেন পিএসএল ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুরন্ত ফর্মে থাকা নাহিদ রানা। রাওয়ালপিন্ডিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে দুই ম্যাচে ছয় উইকেট নেওয়া এই পেসার লাল বল হাতে বরাবরই অপ্রতিরোধ্য।

নাট্যমঞ্চ যখন মিরপুর, স্বাভাবিকভাবেই তখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকবেন তাইজুল ইসলাম। শেষ দশ টেস্টে ৩.১১ ইকোনমিতে ৫৪ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার ডানহাতি ব্যাটারদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ডানহাতিদের আধিক্য থাকায় তাইজুলের স্টাম্প-টু-স্টাম্প বোলিং ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।

ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ হয়ে থাকবেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শেষ আট ইনিংসে ৬৮ গড়ে ৪০৯ রান করেছেন তিনি। সাথে থাকছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম কিংবা লিটন দাসের মতো ব্যাটাররা

​অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য বড় অস্ত্র হতে পারেন শেষ ছয় টেস্টে ৫০ উইকেট নেওয়া রহস্যময় স্পিনার নোমান আলী। আর ব্যাটিংয়ে সবার নজর থাকবে বাবর আজমের ওপর।

সব মিলিয়ে মিরপুর অপেক্ষা করছে এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের। যেখানে একদিকে থাকবে পাকিস্তানের প্রত্যাবর্তনের জেদ, আর অন্যদিকে বাংলাদেশের সেই বীরত্বগাঁথা ধরে রাখার সংকল্প।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link