অনবদ্য সেঞ্চুরি, মিচেল মার্শ স্পেশাল। রাতটা যেন শুধুই তাঁর। একানা স্টেডিয়ামের মাঠে আলো জ্বলছিল ঠিকই, কিন্তু সেই আলোর সবটা নিজের করে নিলেন মার্শ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বোলাররা বুঝতেই পারেনি, কোন দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। কেননা মিচেল মার্শ যখন মেজাজে থাকেন, তখন ক্রিকেট মাঠটা আর ক্রিকেট মাঠ থাকে না—সেটা হয়ে যায় ধ্বংসযজ্ঞের মঞ্চ।
লখনৌ সুপার জায়ান্টসের ইনিংসের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, আজ মার্শ আলাদা কিছু ভাবছেন। প্রথম কয়েক বল দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন রক্ষণাত্মক ক্রিকেট আজ নয়। আজ কেবল আক্রমণ হবে। আর সেই আক্রমণের শিকার হলো আরসিবির বোলিং ইউনিট।
বোলারের কোন বল তাঁকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারল না, ঝড়ের সামনে কেবলই খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। যেন মাঠে দুই দল নয়—একপাশে মিচেল মার্শ, আর অন্যপাশে পুরো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

দ্বিতীয়বার বৃষ্টি আসার আগে মাত্র ৩২ বল খেলেছিলেন তিনি। আর এই ৩২ বলেই তুলে ফেলেছেন ৭৬ রান। আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, তখন লখনৌর দলীয় সংগ্রহ ছিল ৯৫ রান। অর্থাৎ, পুরো ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একাই মিচেল মার্শ। তিনি যে একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন লখনৌ-এর তরী।
বৃষ্টি থামার পরও থামল না মার্শের ঝড়। যেখান থেকে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই শুরু করলেন। ব্যাটখানা উঁচিয়ে ধরলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক সংখ্যাটা ছুঁয়ে। দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএলে পেলেন সেঞ্চুরির দেখা।
তার ইনিংসে ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সব সৌন্দর্য। বৃষ্টি এসে ম্যাচের গতি কমিয়েছে ঠিকই, তবে মার্শকে আর দমিয়ে রাখা যায়নি। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বোলারদের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন সুনিপণ দক্ষতায়। অবশ্য শুরুর কথা আরও টানতেই হয়, মার্শ যখন মেজাজে থাকেন তাঁর সামনে সবকিছু নস্যি।











