শেষ মুহূর্তের গোলে ব্রাজিল শেষ ষোলোতে!

গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে এসে শুধুই গোল করেননি, ব্রাজিলের স্বপ্ন বাঁচিয়েছেন, ব্রাজিলকে তুলেছেন শেষ ষোলোতে।

অবিশ্বাস্য, অনন্য, অবর্ণনীয়। যত বিশেষণই আসুক না কেন, বোধহয় কম হয়ে যাবে। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে এসে শুধুই গোল করেননি, ব্রাজিলের স্বপ্ন বাঁচিয়েছেন, ব্রাজিলকে তুলেছেন শেষ ষোলোতে। ২-১ গোলের পরাজয় নিয়ে জাপানকে তাই নিতে বিদায়।

হিউস্টনে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের পায়ে। প্রথম ১০ মিনিটেই প্রায় ৮২ শতাংশ বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় সেলেসাওরা। অন্যদিকে, জাপান ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে পাল্টা আক্রমণের, একটা সুযোগের।

২৯ মিনিটে সেই সুযোগই কাজে লাগান কাইশু সানো। ব্রাজিলের মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্লু সামুরাইরা।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ঝড় তোলে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে দিশেহারা তখন জাপানের রক্ষণ। তবে ৫৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েসের নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে জাপানের জালে বল জড়ান ক্যাসেমিরো। ১-১ সমতায় ফিরেই ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ব্রাজিল।

এরপর ভিনিসিয়াসের নিশ্চিত গোলও ঠেকিয়ে দেন সুজুকি, গোলবারে লেগে ফিরে আসে বল। ভাগ্য সহায় হলে ওখানেই ম্যাচের গল্প লেখা হয়ে যেত। তবে বিধাতা বোধহয় আরও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত উপহার দিতে চেয়েছেন। ৯০ মিনিট শেষ হয়ে গেছে। ইনজুরি টাইমেরও একেবারে শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে আছে ম্যাচ। সবাই ধরেই নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ে যেতে হবে। সেখানেই মার্তিনেল্লির বাজিমাত।

এবারও গোলপোস্টে লাগে, তবে ভাগ্যটা ব্রাজিলের পক্ষেই গেল। এমন সময় ব্রাজিল লিড পেল, ম্যাচে ফেরার আর সময় ছিল না জাপানের। ফলাফল, ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

নকআউট পর্বে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে আবার ফিরে আসা, ব্রাজিলের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে সেটা ঘটেছিল ২০০২ সালে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ২৪ বছর পর এসে আবারও সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনল কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link