কার্ডিফের মাঠ থেকে আজকের ডাগআউট

২০০৫ সালে সোফিয়া গার্ডেনসে যাদের ব্যাটের ঝড়ে থমকে গিয়েছিল বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া, আজ সেই মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন ও নাফিস ইকবাল ডাগআউটে বসে কলকাঠি নেড়ে চূর্ণ করলেন অজিদের অহংকার।

কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়া বধের একুশ বছর পর লাল বলে সেই মহাকাব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। ২০০৫ সালে সোফিয়া গার্ডেনসে যাদের ব্যাটের ঝড়ে থমকে গিয়েছিল বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া, আজ সেই মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন ও নাফিস ইকবাল ডাগআউটে বসে কলকাঠি নেড়ে চূর্ণ করলেন অজিদের অহংকার। ব্যাটিং কোচ, প্রধান নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার হিসেবে তাদের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় এক রোমাঞ্চকর মেলবন্ধন।

​সেদিন মাঠের সীমানায় লড়াই করা তিন অকুতোভয় সেনানী আজ আর প্যাড-গ্লাভস পরে বাইশ গজে নামেননি, অথচ তাদের মস্তিষ্ক ও অভিজ্ঞতার ছাঁচে তৈরি রূপরেখাতেই আজ ধসে পড়েছে বিশ্বসেরা ক্রিকেট দল। ডাগআউটের নিভৃত কোণে দাঁড়িয়ে তারা তরুণ প্রজন্মকে উপহার দিয়েছেন বিজয়ের মহৌষধ।

​কার্ডিফে ইতিহাস গড়া মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুল এখন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ।  যখন অজি বোলারদের অভিজাত অহংকার ধুলোয় উড়িয়ে দিয়ে তানজিদ হাসান তামিম শতক হাঁকান, ডাগআউট থেকে নিশ্চয়ই আশরাফুল ভাবেন – ‘এই তো, এভাবেই তো বুক চিতিয়ে রাজত্ব করতে হয়!’ ঠিক একুশ বছর আগে কার্ডিফের সেই স্নিগ্ধ বিকেলে ২০ বছরের এক তরুণ এভাবেই বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের ব্যবচ্ছেদ করে লিখেছিলেন রূপকথা।

সেদিন যার ধীরস্থির অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া বধের প্রথম মহাকাব্য রচিত হয়েছিল, সেই হাবিবুল বাশার সুমন এখন প্রধান নির্বাচক। যিনি আধুনিক ক্রিকেটের উপযোগী এক ক্ষুরধার ও ভারসাম্যপূর্ণ দল উপহার দিয়েছেন।

আর টপ অর্ডারে শক্ত ভিত গড়ে দেওয়া নাফিস ইকবাল একজন সফল টিম ম্যানেজার। যিনি মাঠের বাইরের সমস্ত চাপ সামলে ড্রেসিংরুমে তৈরি করেছেন এক সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক পরিবেশ।

দুই দশক আগের সেই জয়টি যদি হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের আঁধার চিরে আলোয় আসার উত্থানপর্ব, তবে এই জয়টি হলো বিশ্বমঞ্চে লাল বলে বাংলাদেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা। সময়ের আবর্তে নায়কদের ভূমিকা হয়তো বদলেছে, কিন্তু ২০০৫ সালে কার্ডিফে যে লড়াইয়ের মশাল জ্বলে উঠেছিল, আজ ড্রেসিংরুমে বসে সেই মশালই নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিলেন তিন সূর্যসন্তান।

তারা প্রমাণ করলেন, মহৎ নায়কেরা কেবল নিজেরা ইতিহাস গড়েন না, তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নতুন ইতিহাস রচনার অমর পথও দেখিয়ে যান।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link