বিশ্বসেরাকে নিয়ে সতর্ক ইংল্যান্ড

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়েই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। অপর দিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হার এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় একসময় সেমিফাইনাল ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে গেছিল ইংলিশদের। তবুও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জায়গা নিশ্চিত করে ইংলিশরা।

এই কারণে সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিজেদেরকে আন্ডারডগ হিসেবেই দেখছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী সেই সাথে বর্তমানে টি টুয়েন্টি তে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে ভারতের সুরিয়া কুমার যাদব কেই মানছেন তিনি। তিনি এবং তার দল যে সুরিয়াকুমার যাদব কে নিয়ে সতর্ক রয়েছেন তাও জানালেন মঈন।

মঈন আলী বলেন, ‘সুরিয়া কুমার যাদব বর্তমানে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান, এ নিয়ে তার কোন দ্বিধা নেই। বিশেষত গত এক বছর ধরে যে ফর্মে সুরিয়া আছে, তাকে নিয়ে আমরা বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছি।’

মঈন আরও বলেন,‘ভারতীয় দলে কোহলি, রোহিতের পাশাপাশি সুরিয়া কুমার থাকায় তাদের ব্যাটিং অর্ডার এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাটিং লাইন আপ। তবে এদের মধ্যে সুরিয়া কুমারই বেশি ভয়ংকর।  জিম্বাবুয়ের সাথে শেষ ম্যাচে ২৫ বলে ৬১ রান করার মাধ্যমে এই বছরে এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে এক হাজার রানের মালিক হোন সুরিয়া। আমরা জানি আমাদের কি করতে হবে।’

সুরিয়া সম্পর্কে মঈন বলেন, ‘সে চমৎকার একজন খেলোয়াড়, সে টি টোয়েন্টি খেলাটাকেই অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে। সে সেইসব খেলোয়াড়দের একজন যারা ফর্মে থাকাকালীন একজন বোলার তাকে  কোথায় বল করবে তা জানে না এবং ফর্মে থাকা অবস্থায় তাদের কোন দুর্বল জায়গা নেই যেটাকে ঘিরে প্রতিপক্ষ কোন পরিকল্পনা সাজাবে।’

ইংল্যান্ড সুরিয়ার শক্তিমত্তার পরিচয় এ বছরের শুরুর দিকে স্বচক্ষেই দেখেছে। যাদব এ বছর ট্রেন্ট ব্রিজে ইংলিশদের বিপক্ষেই নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টি টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করে।যেখানে ১৪ টা চারের মারের সঙ্গে ছিল ছয়টি ছয়ের মার। সেই ইনিংসে যাদব মাত্র ৫৫ বলে ১১৭ রানের ঝড়ো ইনিংসের মাধ্যমে  ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের হয়ে প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পথেই আগাচ্ছিলেন।

কিন্তু, ব্যক্তিগত ১১৭ রানে মঈন আলীর বলে যাদব আউট হয়ে গেলে ভারত ১৭ রানে ম্যাচ হারে। সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মঈন বলেন, ‘সে আমার বোলিংকে একরকম শেষই করে দেয়, কিন্তু ভাগ্যবশত আমি শেষে তাকে আউট করতে পারি।’

হাসতে হাসতে মঈন আরও যোগ করেন, ‘হয়ত সবাইকে মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ায় আমার বলে আউট হয়েছিল সে! তবে পরিশেষে সে যে ইনিংস টা খেলেছিল তা এক কথায় অনবদ্য ছিল। সেই ইনিংসে সে এমন কিছু শট খেলেছিল,যা আমার দেখা অন্যতম সেরা ছিল।’

মঈন পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেন যে,ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড কিছুটা পিছিয়ে থেকেই ম্যাচটা শুরু করবে। এই প্রসঙ্গে মঈন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এই ম্যাচে ভারতই ফেভারিট।  কেননা ওরা অনেক ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল।  উপরন্তু টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচ গুলোতে অনেক ভাল করেছে। আর তার সাথে থাকবে গ্যালারি ভরা দর্শকদের সাপোর্ট। এরকম একটা ভরা  স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে খেলা যেকোন খেলোয়াড়ের জন্যই স্বপ্নের মত। তবে আমাদেরকে এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে মাঠে ভাল করতে হবে।’

মঈনের মতে,ইংল্যান্ড যদি এরকম পরিস্থিতি থেকে ভারতকে হারাতে পারে তবে তা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।তাই ইংল্যান্ড যেকোন ভাবেই হোক ভারতকে হারাতে চাইবে।

 

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link