সহজ, একেবারে পানির মতো সহজ একটা জয় তুলে নিল ফ্রান্স। যতখানি আশা জেগেছিল মরক্কোর, তা নিমিষেই ধুলিসাৎ হয়ে যায় কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ঝড়ের সামনে। ২-০ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট সবার আগে কেটে ফেলল ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুইবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় তারা। তবে প্রতিবারই দুর্দান্ত সেভ করে মরক্কোকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ, সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল ফরাসিরা। অন্যদিকে মরক্কো মূলত প্রতি-আক্রমণের ওপর নির্ভর করলেও ফ্রান্সের রক্ষণকে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।

২৬ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ। প্রতি-আক্রমণে বক্সে ঢুকে ফাউলের শিকার হন এমবাপ্পে, পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ফরাসি অধিনায়ক। এরপরও একাধিক আক্রমণ চালায় ফ্রান্স, কিন্তু প্রথমার্ধে আর গোল আসেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৬০ মিনিটে নিজের ভুল শুধরে নেন এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ এক শটে জাল কাঁপিয়ে ফ্রান্সকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন তিনি। এমবাপ্পের গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয় আঘাত হানে ফ্রান্স। ৬৬ মিনিটে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান ডেম্বেলে। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় ফ্রান্স।

শেষমেষ আর কোনো নাটক ঘটেনি। দাপুটে এমবাপ্পেরা তুলে নিয়েছে সহজ জয়। এই জয়ে মরক্কোর স্বপ্নের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি ঘটল। আর ফ্রান্স এগিয়ে গেল শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে। এখন সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ফরাসিদের এই দুর্দান্ত ছন্দ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।










