ইংলিশ-আর্জেন্টাইন রেফারিদের অদৃশ্য সীমারেখা

ফুটবল খেলা পরিচালনায় নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকেন রেফারিরা। কিন্তু বিশ্বকাপের কোনো কোনো ম্যাচে সেই নিরপেক্ষতারও কিছু অদৃশ্য সীমানা থাকে কখনো কখনো।

ফুটবল খেলা পরিচালনায় নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকেন রেফারিরা। কিন্তু বিশ্বকাপের কোনো কোনো ম্যাচে সেই নিরপেক্ষতারও কিছু অদৃশ্য সীমানা থাকে কখনো কখনো। তেমনিভাবে ৪৪ বছর আগের এক যুদ্ধ আজও প্রভাব ফেলছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। কীভাবে? চলুন জানা যাক।

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে আছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের পর। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৩-২ গোলে জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যাচ পরিচালনা। আর সেখান থেকেই সামনে এসেছে এক পুরোনো বাস্তবতা।

ফিফা প্রতিটি ম্যাচে নিরপেক্ষ রেফারি নিয়োগ করে। তবে শুধু নিরপেক্ষ হলেই হয় না। ভূরাজনীতি, সম্ভাব্য নকআউট পথ এবং দুই দেশের সম্পর্কও বিবেচনায় রাখা হয়। তাই ইংল্যান্ডের মাইকেল অলিভার বা অ্যান্থনি টেলর কখনো আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনা করেন না। একইভাবে আর্জেন্টিনার ফাকুন্দো তেল্লোকেও ইংল্যান্ডের ম্যাচে দেখা যায় না।

এর পেছনে রয়েছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের গল্প। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৭৪ দিনের সেই সংঘাতে প্রাণ হারান শত শত সেনা। যুদ্ধ বহু আগেই ফুরালেও তার ছায়া এখনো ফুটবলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রয়ে গেছে।

আরও একটি নিয়ম আছে। কোনো রেফারির দেশ যদি একই নকআউট ব্র্যাকেটে থাকে, তাহলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের ম্যাচেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় না। ফলে ইংল্যান্ড বা নরওয়ের রেফারিরা আর্জেন্টিনা–সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে থাকবেন না। অন্যদিকে তেল্লোকে রাখা হয়েছে টুর্নামেন্টের অন্য ব্র্যাকেটের ম্যাচে।

এরপরও বিতর্ক থামেনি। আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পক্ষই প্রশ্ন তোলে। মিশরের কোচ হোসাম হাসান ভিএআর সিদ্ধান্ত এবং একটি সম্ভাব্য পেনাল্টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে কিছু আর্জেন্টাইন সমর্থকও রেফারির ফরাসি পরিচয় নিয়ে আপত্তি জানান।

বিশ্বকাপ শুধু গোল আর ট্রফির গল্প নয়। কখনো কখনো ইতিহাস, রাজনীতি আর ফুটবলও একই বাঁশির শব্দে মিলেমিশে হয় একাকার। তবু নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপসহীন থাকাই নৈতিকতার ভিত্তি।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link