ব্যর্থতা ছাপিয়ে সেরা সেই এমবাপ্পেই!

পেনাল্টি মিস করলেন শুরুতে, প্রথমার্ধে গোল ছাড়াই ফিরতে হলো ফ্রান্সকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের কিলিয়ান এমবাপ্পে সম্পূর্ণ আলাদা। ৬০ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত গোল করে পাপমোচন করলেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও এক বিস্ময়কর দিন পার করলেন।

পেনাল্টি মিস করলেন শুরুতে, প্রথমার্ধে গোল ছাড়াই ফিরতে হলো ফ্রান্সকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের কিলিয়ান এমবাপ্পে সম্পূর্ণ আলাদা। ৬০ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত গোল করে পাপমোচন করলেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও এক বিস্ময়কর দিন পার করলেন।

মরক্কোর বিপক্ষে শুরুতেই হোঁচট খেলেন এমবাপ্পে। নিজেই পেনাল্টি আদায় করলেন, তবে সেটাকে আর গোলে পরিণত করা হয়ে ওঠেনি। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পেনাল্টিতে প্রায় নির্ভুল থাকা একজন ফুটবলারের জন্য এটি ছিল বিরল দৃশ্য। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো এই ব্যর্থতা ম্যাচের বাকি সময়েও প্রভাব ফেলবে। কিন্তু বিশ্বমানের সঙ্গে সাধারণের পার্থক্য এখানেই।

ব্যর্থ শট তার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নিতে পারেনি। বরং ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। ৬০ মিনিটে বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। যে পেনাল্টি মিস নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেটি চাপা পড়ে যায় তার অসাধারণ গোলে।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট গোল হলো ২০টি। এত অল্প বয়সে এমন মাইলফলক স্পর্শ করা চাট্টিখানি কথা নয়। সামনে আরও অনেক বছর খেলার সুযোগ থাকায় এই সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

শুধু গোল করা নয়, করাতেও এমবাপ্পে কম যান না। ৬৬ মিনিটে যে গোলটা উসমান ডেম্বেলে করলেন, সেখানেও পেছনের অবদানটা এমবাপ্পেরই।

ফ্রান্সের বর্তমান দলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্কোয়াড বলা হয়। আক্রমণ, মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণ—সবখানেই তাদের আছে প্রতিষ্ঠিত সব তারকা। তারপরও যখন ম্যাচ কঠিন হয়ে যায়, ফ্রান্সের চোখ ঘুরে যায় একজনের দিকেই। সবাই জানে, মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেওয়ার সামর্থ্য এমবাপ্পের আছে। তিনি শুধু গোল করেন না, প্রতিপক্ষের পুরো রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করেন, আবার প্রয়োজন হলে নিজেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link