সৌরভ গাঙ্গুলি, এক লড়াকু মহাকাব্য

সেই সৌরভ গাঙ্গুলি আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ তিনি শুধুই ক্রিকেটার নন, তিনি একটা অনুপ্রেরণা। তাঁর নাম শুনলে রক্ত আজও গরম হয়।

২০০৬ সাল। ভারতীয় ক্রিকেটে তখন উত্তাল সময়। চ্যাপেল-দ্রাবিড় জোটে কোণঠাসা এক নাম—সৌরভ গাঙ্গুলি। হোটেলের ঘরে শুভানুধ্যায়ী সাংবাদিকেরা বললেন, “এখন ফিরতে চাও কেন? দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসছে, ওদের বিপক্ষে ফিরলেই তো পারো!” সৌরভ শ্যাডো ব্যাটিং করতে করতে বললেন, ‘পালিয়ে ক্রিকেট হয় না। সুযোগ যেখানে আসবে, সেখানেই লড়তে হবে।’

না, সৌরভ গাঙ্গুলি কখনওই পলায়নপর ছিলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারত তখন ০-৭ ব্যবধানে বিধ্বস্ত। ড্রেসিংরুম নিস্তব্ধ, কেউ সৌরভের সাথে কথাও বলে না। নেটে নকিং করাতে এলেন গ্রেগ চ্যাপেল। শ্লেষ মেশানো কণ্ঠে বললেন, ‘ফাইনালি ইউ আর ব্যাক!’ সৌরভ কিছু না বলে ব্যাট চালিয়ে গেলেন।

এরপর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামলো ভারত। ম্যাচের আগে দলের মিটিংয়ে সৌরভ বললেন, ‘হার-জিত অতীত। দক্ষিণ আফ্রিকা মঙ্গল গ্রহ থেকে আসেনি। আমরাও পারি, শুধু বিশ্বাস রাখতে হবে।’ বীরেন্দ্র শেবাগ পরে বলেছিলেন, ‘নিজের জায়গাই যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে এত আত্মবিশ্বাস আসে কোথা থেকে!’

কিন্তু, ঠিকই হলো, ভারত হেরে যাওয়া দলের তকমা ঝেড়ে জিতল সেই ম্যাচ। প্রথম টেস্টে জোহানেসবার্গের সবুজ উইকেট। ভারত ব্যাটিং বিপর্যয়ে। এক বছর দলের বাইরে থাকা সৌরভ খেললেন ৫১ রানের এক লড়াকু ইনিংস—একটা ছক্কা, ঠিক সেই ফাস্ট বোলার মাখায়া এনটিনির বিপক্ষেই, যে বলেছিল সৌরভের সব গলদ ধরে ফেলেছে! ভারত জিতল ঐতিহাসিক টেস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার।

এটা কোনো শতকের গল্প নয়, সংখ্যার হিসাব নয়। এটা এক লড়াকুর গল্প, যিনি খালি হাতে ফিরে এসে দলকে জেতালেন, নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করলেন। তাই তো বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠি বলেছিলেন, ‘সৌরভ গাঙ্গুলি নামটা শুনলেই রক্ত গরম হয়ে যায়!’

সেই সৌরভ গাঙ্গুলি আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ তিনি শুধুই ক্রিকেটার নন, তিনি একটা অনুপ্রেরণা। তাঁর নাম শুনলে রক্ত আজও গরম হয়।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link