ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের অগ্রণী সেনাদের একজন তিনি, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের রাজমুকুটে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। সেই মার্নাস লাবুশানে দূর পরবাসে একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি দলকে ফাইনালে তোলার আনন্দে চোখ ভিজিয়ে তুলছেন। এ এক বিস্ময়কর সত্য, আরও বিস্তৃত অর্থে বললে, অপার্থিব কোনো আবেগে মোড়া ভালোবাসা, ক্রিকেটের কাছে সোপর্দ করা।
লাবুশানের বাহ্যিক পরিচয়টা তিনি লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটার। সাদা পোশাক কিংবা একদিনের ক্রিকেটই তাঁর গল্প বলে। টি-টোয়েন্টির সাঁচে তিনি নিজেকে গড়ে তুলতে পারেননি। তাই তো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই রমরমা যুগে এসেও দেশের বাইরে তাঁর পদচারণা নেই বললেই চলে।
এরই মাঝে তাঁর ক্রিকেটীয় গল্পের প্লটে হঠাৎ আগমন ঘটে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল)। নবাগত দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া হায়দ্রাবাদ কিংসম্যান তাঁকে দলে ভেড়ায়। এই পর্যন্তই অনেকে মেনে নিতে পারেননি, তাঁর ওপর দলটার অধিনায়কের আসন তাঁকে দেওয়া হলে সমালোচনার ট্রিগারে আঙুল চলে যায় অনেকের।

লাবুশানের আবেগটা হয়তো এখানেই প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। দলনেতা, চারদিকে সূচালো তীর তাক করা তাঁর দিকে। ভুল হলেই বিপদ। আসরের প্রথম চার ম্যাচ হেরে বাস্তবতার চরমপত্র হাতে ওঠার উপক্রম হলো। সবাই ধরেই নিয়েছিল, সবার আগে কেউ বাদ পড়লে সেটা হায়দ্রাবাদ। যার নেপথ্যে টি-টোয়েন্টিতে অপরিচিত মুখ লাবুশানের অধিনায়কত্ব।
বাস্তবতা আসলেই লিখতে বসেছিল, লাবুশানে নামক এক পরাজিত যোদ্ধার উপসংহার পর্ব। তবে জীবন যে অনিশ্চিত, এখানে ভাগ্য যেমন বিধাতা লেখে তেমনই তাঁর একটা অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকে মানুষের হাতেও। যেটা মার্নাস লাবুশানে লিখেছেন।
সবার আগে বাদ পড়া থেকে প্লে-অফে পা রাখা। সমালোচকদের অবিশ্বাস কাটতে না কাটতেই ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নেওয়ার কীর্তি, এসবই তো এসেছে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হওয়া লাবুশানের হাত ধরে।

প্রচলিত একটা কথা আছে, বিশ্বাস হচ্ছে নোঙরের মতো, যা তোমাকে ভেসে যেতে দেবে না। টেনে ধরে রাখবে। লাবুশানের বিশ্বাস ছিল, মাস্তুলহীন জাহাজকে পারলে তিনিই পারবেন তীরে ভেড়াতে, সব অবিশ্বাসকে ধুলোয় মিশিয়ে গলা ফাটাবেন বিজয়োল্লাসে। সেটা তিনি করেছেন।
ওই যে চোখের কোণ ভিজেছে যে নোনতা জলে, ওটাই সেই বিশ্বাসের পরিচয়। দুনিয়া যখন মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখনই নিজেকে প্রমাণের শ্রেষ্ঠ সময়। লাবুশানে পেরেছেন, একটা নবাগত দলকে বুকে ধারণ করে ফাইনাল পর্যন্ত আগলে রেখেছেন। চোখের ওই জলটাও তাই বিশ্বাসের ঝরনা হয়ে উপচে পড়ছে, মার্নাস লাবুশানেকে বলে যাচ্ছে, হিরোরা কখনও হাল ছাড়ে না, ওরা অবিশ্বাস্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে আনে।











