স্কোরবোর্ডে ২০০ পেরিয়ে ২৪৯ রান! কিন্তু প্রতিপক্ষের নাম যদি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তবে নিরাপদ নয় কোনো রানই। নিজেদের দিনে তারা যে রূপ ধারণ করে, তখন কোনো সমীকরণ বা বোলিং আক্রমণ দিয়ে তাদের রোখা অসম্ভব। রাঞ্চিতে ভারতের তোলা ২৪৯ রানকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নয় বল হাতে রেখেই ছয় উইকেটের অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দানবীয় জয়ের মূল নায়ক অধিনায়ক শাই হোপ। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি।
হোপের সাথে তাণ্ডবে যোগ দেন শেরফেন রাদারফোর্ডও। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান। দুজনের জুটিতে ভারতীয় বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়, যা রূপ নেয় টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী পাওয়ার হিটিংয়ের প্রদর্শনীতে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত স্কোরবোর্ডে ২৪৯ রানের সুবিশাল পুঁজি দাঁড় করায়। সাঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ৮২ এবং শেষ দিকে তিলাক ভার্মা ও শ্রেয়াস আইয়ারের ক্যামিওতে মনে হচ্ছিল ম্যাচ ভারতের পকেটে। কিন্তু রাঞ্চির চেনা উইকেটে যে ক্যারিবীয় পাওয়ার হিটিংয়ের তাণ্ডব অপেক্ষা করছিল, তা হয়তো কল্পনায়ও ছিল না আয়োজকদের।
২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলে মায়াঙ্ক যাদব। তাঁর গতির তোপে উইন্ডিজ টপ অর্ডার ভেঙে পড়লেও অবিচল ছিলেন অধিনায়ক হোপ।
পরবর্তীতে রাদারফোর্ড যুক্ত হলে পার্টনারশিপের শুরু থেকেই ছক্কা-চারের বৃষ্টি শুরু করেন এই জুটি। ভারতের মূল স্পিন অস্ত্র কুলদীপ যাদব থেকে শুরু করে পেসারদের প্রতিটি ডেলিভারি মাঠের সীমানা পার হতে থাকে অনায়াসে।

মাঠের চারপাশের বাউন্ডারি ছোট মনে হচ্ছিল হোপের চোখ ধাঁধানো পাওয়ার হিটিংয়ের সামনে। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন হোপ। শেষদিকে রোমারিও শেফার্ডের ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের সংহারী রূপে ১৮ ওভার তিন বলেই জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবিয়ানরা।
বিশ্বের যেকোন দলই হয়তো যেকোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২৪৯ রান বোর্ডে নিয়ে অনায়াসেই জয়ের স্বপ্ন বুনবে। কিন্তু নিজেদের দিনে ক্যারিবিয়ানরা যেকোন অসাধ্য সাধন করার ষোল আনা ক্ষমতা রাখে। এই সত্যটাই আরও একবার প্রমাণিত হলো রাঞ্চিতে। এই জয়ের মাধ্যমে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফেরালো সফরকারীরা।











