ফুটবল দুনিয়ায় লিওনেল মেসির বিকল্প খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু ফুটবল তো থেমে থাকে না। মহাতারকা যখন বিদায় নিলেন, তখন আলবিসেলেস্তেদের ভবিষ্যৎ লিডারশিপ ও সৃজনশীলতার কাণ্ডারি হিসেবে বারবার একটি নামই উঠে আসছে – নিকো পাজ। রিয়াল মাদ্রিদ অ্যাকাডেমির এই সৃষ্টি এবং বর্তমান ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে সিরি ‘এ’ কাঁপানো এই তরুণ প্লেমেকারকে কেন্দ্র করেই এখন নতুন স্বপ্ন বুনছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল।
ফুটবল ঈশ্বরও বোধহয় মাঝে মাঝে একই চিত্রনাট্য দুই প্রজন্মের ফ্রেমে নতুন করে আঁকেন। মেসি ও নিকো পাজের ক্যারিয়ারের শুরুটা পর্যবেক্ষণ করলে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর মিল চোখে পড়ে। জাতীয় দলে লিওনেল মেসির সূচনা হয়েছিল বিখ্যাত ১৮ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে, আর আলবিসেলেস্তেদের ড্রেসিংরুমে নিকো পাজের প্রথম আত্মপ্রকাশও ঘটেছে সেই একই ১৮ নম্বর জার্সিতে।
শুধু তাই নয়, ক্যারিয়ারের শুরুর সেই ক্ষিপ্র মেসিকে সবাই চেনে কাঁধ ছুঁইছুঁই লম্বা চুলে, আর নিকো পাজও স্ক্যালোনির স্কোয়াডে পা রেখেছেন সেই একই ঐতিহ্যবাহী লুকে। ক্লাব ফুটবলে কোমোতে ইতোমধ্যেই দশ নম্বর জার্সি পরে আলো ছড়াচ্ছেন পাজ, জাতীয় দলেও মেসি পরবর্তী দশ নম্বর জার্সিটি তাঁর গায়েই ওঠার কথা।

সবচেয়ে চমৎকার বিষয় হলো, দেশের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই নিকো পাজের প্রথম অ্যাসিস্টটি এসেছিল স্বয়ং লিওনেল মেসির গোলে। ভাগ্যচক্রে বিপরীত চিত্রও সত্য, মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অ্যাসিস্ট থেকে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার দূরপাল্লার বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেছেন এই তরুণই, যা আমাদের স্মৃতিতে হুবহু তরুণ মেসির প্রথম গোলগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
পাজের খেলার ধরণে রয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাকাডেমির টেকনিক্যাল দক্ষতা ও আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক তাড়না। হাফ-স্পেস থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, ড্রিবল করে ডি-বক্সে ঢোকা এবং ডিফেন্স-চেরা পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য। পাশাপাশি বক্সের বাহির থেকে পাজের বাম পায়ের বাঁকানো শট কিংবা ফ্রি-কিক নেওয়ার নিখুঁত ক্ষমতা মেসি পরবর্তী আর্জেন্টিনার জন্য এক বড় অ্যাসেট হতে যাচ্ছে।
মেসি যখন বার্সেলোনা ছেড়ে যান, তখন কাতালানদের মনে অন্ধকার নেমে এসেছিল। কিন্তু লামিনে ইয়ামাল এসে যেন আবার নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছেন। ঠিক একইভাবে, মেসি-পরবর্তী যুগের আর্জেন্টিনা তাদের নতুন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে খুঁজে পেয়েছে নিকো পাজকে। ফুটবল দুনিয়ায় মেসি এমন এক উচ্চতায় এমন এক ফুটবলের মানদণ্ড স্থাপন করে দিয়ে গেছেন, যা ছোঁয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য মেসির সেই কিংবদন্তিতুল্য লিগ্যাসিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় প্রেরণা ও স্বপ্নের জায়গা।












