ব্যস্ততার শেষ নেই বাংলাদেশ দলের। এক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩০ টি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন লিটন দাস ও তাঁর দল। টানা খেলার ধকল যে কতটা, সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারার পর প্রকাশ্যেই বলেছিলৈন লিট। ক্লান্তির সেই অধ্যায় শেষ হওয়ার আগেই সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন সূচি।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিপিএলে অন্তত ১০টি করে ম্যাচ খেলতে হবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের জন্য চাপটা আরও বেশি—আমিরাতে আইএল টি–টোয়েন্টি ও অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ খেলছেন তাঁরা। সেখান থেকে বিপিএল খেলে মুস্তাফিজ নামবেন বিশ্বকাপের ময়দানে।
এই বাড়তি চাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার বাড়তি সতর্ক বিসিবি। বিশ্বকাপের আগে এবার শুধু মাঠের প্রস্তুতি নয়, ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ও সক্ষমতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। ঝুঁকি নয়, হিসাব করেই এগোতে চায় তারা।

সিদ্ধান্ত হয়েছে, পুরো বিপিএলজুড়েই জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ‘ওয়ার্কলোড’ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এজন্য লিটন, সাইফ, মুস্তাফিজদের জার্সির ভেতরে থাকবে বিশেষ জিপিএস চিপ, যার মাধ্যমে ম্যাচ চলাকালীন তাদের শারীরিক পরিশ্রমের সব তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বোর্ডের একজন ট্রেইনার সরাসরি তাঁদের সাথে কাজ করবেন।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন। প্রয়োজনে ঝুঁকি এড়াতে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া হবে। বিশ্বকাপের আগে চোটমুক্ত থাকতেই এই উদ্যোগ। জিপিএস চিপের মাধ্যমে জানা যাবে একজন ক্রিকেটার ম্যাচে কত দূর দৌড়েছেন, সর্বোচ্চ গতি কত ছিল, কতবার স্প্রিন্ট করেছেন, দিক পরিবর্তনের সংখ্যা, এমনকি হৃদস্পন্দনও। সব তথ্য সরাসরি ট্রেইনারের ল্যাপটপে জমা হবে।
বিপিএলের শুরু থেকেই জাতীয় দলের সম্ভাব্য প্রতিটি ক্রিকেটারের দিকে বাড়তি নজর রাখবে বিসিবি। ফিজিও ও ট্রেইনাররা নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে। জাতীয় দলের স্বার্থে প্রয়োজনে খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিতে বাধ্য থাকবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।











