লিটন দাস মানেই চরম বিপর্যয়ে দলের কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি!

দলে সংকট এলেই একটা নামের দিকে সবার চোখ ঘুরে যায়—লিটন দাস। ইনজুরি থেকে ফিরে তাঁর মাঠে নামার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় টেস্টে। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় প্রথম টেস্টের স্কোয়াডেই জায়গা করে নিয়েছেন তিনি—আর এই খবরেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে গোটা সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে। কারণটা স্পষ্ট: ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য এই সফর শুধু আরেকটা সিরিজ নয়, এটা এক বিরল পরীক্ষা।

দলে সংকট এলেই একটা নামের দিকে সবার চোখ ঘুরে যায়—লিটন দাস। ইনজুরি থেকে ফিরে তাঁর মাঠে নামার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় টেস্টে। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় প্রথম টেস্টের স্কোয়াডেই জায়গা করে নিয়েছেন তিনি—আর এই খবরেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে গোটা সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে। কারণটা স্পষ্ট: ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য এই সফর শুধু আরেকটা সিরিজ নয়, এটা এক বিরল পরীক্ষা।

শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পেছনেও লিটনের উপস্থিতি দলকে দেয় বাড়তি শক্তি। উইকেটরক্ষক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা আর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর জন্য মাঠে এক আস্থার জায়গা তৈরি করে। স্লিপ কর্ডনে দুজনের বোঝাপড়া, ফিল্ড সাজানো কিংবা বোলিং পরিবর্তনের মুহূর্তে লিটনের পরামর্শ—এসব ছোট ছোট বিষয়ই বড় সুফল বয়ে আনে। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে, যেখানে শান্ত-লিটনের এই জুটি মাঠের প্রতিটি সিদ্ধান্তে রেখেছিল স্পষ্ট ছাপ।

আর ব্যাট হাতে লিটনের পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের নির্ভরযোগ্য নাম। এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারে ছয়টি টেস্ট সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু কার্যকরী হাফ-সেঞ্চুরি। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে দুই হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।

এই ধারাবাহিকতার শুরুটা চট্টগ্রামে, ২০২১ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৪৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসেছিল বাংলাদেশ, অধিনায়ক মুমিনুল ও নাজমুল শান্ত দুজনই আউট। ঠিক সেই জায়গা থেকে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান লিটন। ক্যারিয়ারের ২৬তম টেস্টে, ১৯৯ বলে খেলেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি—এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৫ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৪ রানে নড়বড়ে নব্বইয়ের ফাঁদে কেটেছিলেন দুবার।

তবে সবচেয়ে আলোচিত ইনিংসটি বোধহয় পাকিস্তানের মাটিতে, মুলতানে। ২২৮ বলে ১৩৮ রানের সেই ইনিংস জায়গা করে নিয়েছিল ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা টেস্ট ইনিংসের সংক্ষিপ্ত তালিকায়—অলি পোপ, যশস্বী জয়সওয়াল, হ্যারি ব্রুকদের পাশে। ওই ইনিংসেই এসেছিল পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি।

সবশেষ সিলেটেও একই গল্পের পুনরাবৃত্তি—বিপর্যয়ের মুখে পড়া দলকে টেনে তুলে ১৫৯ বলে ১২৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস উপহার দেন লিটন, তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

এই কারণেই ইনজুরি সেরে ওঠার খবরটা এত বড় স্বস্তির—লিটন যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই তিনি সবচেয়ে ভয়ংকর। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য প্রথম টেস্ট থেকেই তাঁকে পাওয়াটা তাই নেহাত কাকতালীয় নয়, বরং এক আশার নাম।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link