তামিম পরবর্তী যুগে ধ্বংসস্তূপে টাইগার ওপেনিং

ইনিংসের প্রথম বলটা যখন পড়ে, তখনই যেন লেখা হয়ে যায় বাংলাদেশের ভাগ্য। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে একটা দলের ভিত গড়ে ওঠে ওপেনিং জুটি দিয়ে, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই ভিতটাই যেন গত কয়েক বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে চোরা বালুর ওপর। তামিম ইকবাল বিদায় নেওয়ার পর থেকে ইনিংসের শুরুটা হয়ে উঠেছে একরকম জুয়া—কে নামবেন, কতদিন টিকবেন, কিছুই আর অনুমান করা যায় না।

ইনিংসের প্রথম বলটা যখন পড়ে, তখনই যেন লেখা হয়ে যায় বাংলাদেশের ভাগ্য। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে একটা দলের ভিত গড়ে ওঠে ওপেনিং জুটি দিয়ে, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই ভিতটাই যেন গত কয়েক বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে চোরা বালুর ওপর। তামিম ইকবাল বিদায় নেওয়ার পর থেকে ইনিংসের শুরুটা হয়ে উঠেছে একরকম জুয়া—কে নামবেন, কতদিন টিকবেন, কিছুই আর অনুমান করা যায় না।

সংখ্যাটাই বলে দেয় সংকট কতটা গভীর: তামিম-পরবর্তী ২১টি টেস্টে সাতজন ভিন্ন ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন ওপেনিংয়ে, কিন্তু একজনও পারেননি তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে। এই সাতজন মিলিয়ে ফিফটি এসেছে মোটে ১০টি—বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ওপেনিং পজিশনে এমন করুণ রেকর্ড আর কোথাও নেই।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাটা কমার বদলে যেন আরও পোক্ত হয়েছে। ডব্লিউটিসিতে বাংলাদেশের কোনো ওপেনার সবশেষ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন প্রায় চার বছর আগে, ভারতের বিপক্ষে জাকির হাসানের ব্যাটে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ শূন্য এক অধ্যায়। ২০২৩ সাল থেকে হিসাব ধরলে ডব্লিউটিসিতে বাংলাদেশি ওপেনারদের গড় নেমে এসেছে মাত্র ২০.১৭-এ—টেস্ট ওপেনারের জন্য যা রীতিমতো লালবাতি জ্বলার মতো সংখ্যা।

মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের নামের পাশে অবশ্য গত দুই বছরে দুটো সেঞ্চুরি জমা পড়েছে, তবে খেয়াল করলে দেখা যায় দুটোই এসেছে ডব্লিউটিসির বাইরে থাকা প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ফলে বড় মঞ্চে, শক্ত প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে বড় ইনিংস খেলার প্রমাণটা এখনো অধরাই থেকে গেছে।

এমন নড়বড়ে ভিত নিয়েই এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে দলটি, যেখানে মেলবোর্ন ও সিডনির বাউন্সি উইকেটে বল আসে বাড়তি গতি আর সিম মুভমেন্ট নিয়ে—অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরাই যেখানে খেই হারিয়ে ফেলেন। অথচ এই মঞ্চে বাংলাদেশের ভরসা করতে হচ্ছে ওয়ানডে মেজাজে অভ্যস্ত তানজিদ হাসান তামিম আর দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্টে ফেরা সৌম্য সরকারের ওপর। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক—অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী পেস আক্রমণের সামনে এই জুটি ঠিক কতদূর টিকে থাকতে পারবে।

সফরের আগে দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে ইনজুরির খবর। শরিফুল ইসলাম আর নাহিদ রানার চোট পেস আক্রমণকেও ফেলেছে অনিশ্চয়তায়, ফলে সংকট এখন শুধু ব্যাটিংয়ে আটকে নেই।

তবে বাস্তবতা এড়িয়ে যাননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কঠিন এই পরিস্থিতিকে তিনি সরাসরি একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। কিন্তু সত্যিটা হলো—ইনিংসের শুরুতে টপ অর্ডার ভেঙে পড়লে গোটা লড়াইয়ের ভার গিয়ে পড়বে মিডল অর্ডারের কাঁধে। সমস্যার শিকড় এতটাই গভীরে প্রোথিত যে, সমাধান খুঁজতে এখন প্রায় অলৌকিক কিছুরই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link