অ্যানফিল্ডে নতুন সূর্যোদয়ের লড়াই

লিভারপুলের ডাগআউটে আন্দোনি ইরাওলার আগমন ঘিরে অলরেড শিবিরে নতুন উদ্দীপনা ছড়ালেও, স্কোয়াড সংকট ও ট্যাকটিক্যাল সমস্যায় শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে নতুন কোচ।

স্কোয়াড সংকট ও ট্যাকটিক্যাল সমস্যায় দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে নব্য লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা। মাঠের ফুটবলে নিজের ‘হাই-প্রেসিং’ দর্শন বাস্তবায়নের আগেই দল পুনর্গঠনের বিশাল ধকল সামলাতে হবে তাঁকে।

এই সংকটের মূলে রয়েছে মৌসুম শেষে মোহাম্মদ সালাহ ও ইব্রাহিমা কোনাতের বিদায়। আক্রমণ ও রক্ষণের দুই স্তম্ভ হারিয়ে লিভারপুল এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

একদিকে বাম প্রান্তে কোডি গাকপোর অফ-ফর্ম ও আলেকজান্ডার ইসাকের মানিয়ে নেওয়ার লড়াই, অন্যদিকে ডান প্রান্তে ‘সালাহ-পরবর্তী’ যুগে রিও এনগুমোহা বা ফেদেরিকো চিয়েসাকে নিয়ে নতুন ছক কষতে হচ্ছে ইরাওলাকে।

রক্ষণে কোনাতের শূন্যতা পূরণে রোনাল্ড আরাউহোর আগমন কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ইরাওলার প্রিয় ‘হাই ডিফেন্সিভ লাইন’ কৌশলের কারণে ডিফেন্সে ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে।

আক্রমণ শানিত করতে পিএসজি থেকে ব্রাডলি বারকোলাকে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে ইংলিশ এই দলটি। তবে টানা দুইবারের ইউসিএল চ্যাম্পিয়নদের চাওয়া ১৪০ মিলিয়ন ইউরো মেটানো লিভারপুলের জন্য বেশ কঠিন।

এর ওপর জেরেমি জাকুয়ে ও কার্টিস জোন্সের ফিটনেস সমস্যা, দলের স্ট্যামিনার ঘাটতি এবং সেট-পিস রক্ষণের পুরোনো দুর্বলতা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্রেন্ডলি ম্যাচগুলোতে প্রথমার্ধে তীব্র গতিতে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলছে দল। সব মিলিয়ে, কৌশলগত পরিবর্তন ও স্কোয়াডের শূন্যতা পূরণের এই চ্যালেঞ্জ দ্রুত সামাল দেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে ইরাওলা যুগে অ্যানফিল্ডের সাফল্য।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link