ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ, রেফারির শেষ বাঁশি বাজতে আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি। বুড়ো এক ভদ্রলোক চুইঙ্গাম চিবোচ্ছেন। হাতের ঘড়ি দেখছেন, চোখের চাহনীতে যেন বলছেন, ‘লেটস ক্রিয়েক সাম ম্যাজিক!’
যখন প্রায় সবাই ধরে নিয়েছে পরাজয় নিশ্চিত, ঠিক তখনই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এক অলৌকিক গোল এবং অবিশ্বাস্য এক জয়। ফুটবল মানচিত্রে এই অতিপ্রাকৃতিক মুহূর্তগুলোর নামই ‘ফার্গি টাইম’। আর বুড়ো সেই ভদ্রলোকের নাম স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।
ফার্গুসনের নামানুসারে জন্ম নেওয়া এই শব্দবন্ধটি কেবল ঘড়ির কাঁটার কিছু অতিরিক্ত মিনিট নয়। এটি ছিল সবুজ গালিচায় শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত মনস্তাত্ত্বিক রূপকথা, যা বিশ্ব ফুটবলের দর্শককে আমূল বুঁদ করে রাখত।

মাঠের প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে হাতঘড়ির দিকে ফার্গুসনের সেই পরিচিত আঙুল নির্দেশ করাই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিত। সেই নীরব ইশারায় রেফারিদের ওপর তৈরি হতো মনস্তাত্ত্বিক চাপ, আর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে নেমে আসত চরম আতঙ্কের ছায়া।
রেড ডেভিলদের এই অদম্য মানসিকতা প্রতিপক্ষকে শেষ কয়েক মিনিটে পুরোপুরি ধসে দিত। ৯০ মিনিট পেরিয়ে ইনজুরি টাইমে গোল করে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার এই কৌশল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে এনে দিয়েছিল একের পর এক অবিস্মরণীয় ট্রফি।
ইতিহাসের পাতায় এই রূপকথার সূচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে, শেফিল্ড ওয়েনসডের বিপক্ষে। অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে স্টিভ ব্রুসের জাদুকরী হেড শুধু ম্যাচই জেতায়নি, ২৬ বছর পর ক্লাবের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।

তবে ‘ফার্গি টাইম’ এর সবচেয়ে মহাকাব্যিক দৃশ্যপট রচিত হয় ১৯৯৯ সালের ন্যু ক্যাম্পের সেই অবিস্মরণীয় রাতে। বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ইউনাইটেড।
সব আশা যখন শেষ, ঠিক তখনই যোগ করা তিন মিনিটের ব্যবধানে টেডি শেরিংহাম ও ওলে গানার সুলশারের জোড়া গোল স্তব্ধ করে দেয় পুরো বিশ্বকে। অলৌকিক এই জয়ে ভর করেই অর্জিত হয় ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’।
পরিসংখ্যান হয়তো বলবে বিতর্ক এড়াতে তারা অন্য দলগুলোর চেয়ে খুব বেশি অতিরিক্ত সময় পেত না। কিন্তু ফুটবলের আবেগে ‘ফার্গি টাইম’ চিরকাল বেঁচে থাকবে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার এক অমর প্রতীক হয়ে।












